জাতীয়
পরিকল্পনা ও সদিচ্ছা থাকলে পরিচ্ছন্ন-সবুজ এলাকা গড়া সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী
পরিকল্পনা ও সদিচ্ছা থাকলে যেকোনো এলাকাকে সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, রাজধানীর আমিনবাজার এলাকায় গত দুই মাসে যে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে, তা এ উদ্যোগের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। সরকারের পরিকল্পিত উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে পরিবেশদূষণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমস্যাগুলোও ধীরে ধীরে সমাধান করা সম্ভব।
রোববার দুপুরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজার এলাকায় সড়কের পাশে গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে সবুজায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, প্রায় দুই মাস আগে আমিনবাজার এলাকার পরিবেশ ও পরিস্থিতি যেমন ছিল, বর্তমানে সেখানে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। এ উদ্যোগের ফলে এলাকাটি আরও দৃষ্টিনন্দন হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের জন্য তুলনামূলক পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা বেগমসহ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, সরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে একটি এলাকাকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলা সম্ভব হলেও সেই অর্জন ধরে রাখতে স্থানীয় বাসিন্দাদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। এলাকাবাসী সম্মিলিতভাবে সহযোগিতা করলে আমিনবাজারকে আরও সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য করে তোলা সম্ভব হবে।
প্রধানমন্ত্রী ঢাকা জেলা প্রশাসককে আমিনবাজারের আশপাশে ঢাকা জেলার আওতাধীন এলাকাগুলোতেও সবুজায়ন কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, শুধু একটি নির্দিষ্ট স্থানে সৌন্দর্যবর্ধনের মধ্যে এ কার্যক্রম সীমাবদ্ধ না রেখে আশপাশের এলাকাগুলোকেও পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিতে হবে।
মহাসড়কের দুই পাশে অবস্থিত বিভিন্ন মিল ও কারখানার মালিকদের সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে মহাসড়কের পাশে নির্দিষ্ট কিছু স্থানের পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব তাদের দেওয়া যেতে পারে। এতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণও নিশ্চিত হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশের উন্নয়ন ধরে রাখা সহজ হবে।
এ ছাড়া যেসব স্থানে এখনো ময়লা-আবর্জনা জমে রয়েছে, সেসব স্থান চিহ্নিত করে পরিচ্ছন্নতা, উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশনা দেন তিনি। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, পরিকল্পিতভাবে সবুজায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা গেলে আমিনবাজার ও এর আশপাশের এলাকার সৌন্দর্য আরও বাড়বে। পাশাপাশি পরিবেশদূষণ কমিয়ে স্থানীয় মানুষের জন্য পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এলাকার সংসদ সদস্যদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিরা সমন্বিতভাবে কাজ করলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশদূষণসংক্রান্ত সমস্যাগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধান করা যাবে। এ জন্য স্থানীয় পর্যায়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশ রক্ষায় নাগরিকদের দায়িত্বশীল অংশগ্রহণ জরুরি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, মানুষ যেন নির্মল পরিবেশে বুকভরে শ্বাস নিতে পারে এবং প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারে, সে লক্ষ্যেই সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। পরিবেশ রক্ষাকে শুধু সরকারের দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা না করে প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
ঢাকা জেলা প্রশাসকের উদ্যোগের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমিনবাজারে পরিবেশ উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের মাধ্যমে তিনি দেশের অন্যান্য জেলার প্রশাসকদের জন্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এ উদ্যোগ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে অন্যান্য জেলার জেলা প্রশাসকেরাও নিজ নিজ এলাকার উপযুক্ত স্থানগুলো পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও নান্দনিক করে গড়ে তুলতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের দুই পাশে সবুজায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের লক্ষ্যে এ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে মহাসড়কসংলগ্ন এলাকার পরিবেশের উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সবুজায়ন সম্প্রসারণের পাশাপাশি এলাকাটিকে আরও পরিচ্ছন্ন ও দৃষ্টিনন্দন করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।