জাতীয়

অস্ত্র নিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানের ঘটনায় যে ব্যাখ্যা দিলেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৯ পিএম

অস্ত্র নিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানের ঘটনায় যে ব্যাখ্যা দিলেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানের সময় আত্মরক্ষার জন্য নিজের লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন বলে দাবি করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের যাচাইকৃত অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ দাবি করেন।

বিবৃতিতে ইশরাক বলেন, কর্মসূচি চলাকালে একটি অস্থায়ী আস্তানার কাছে পৌঁছালে ৩০ থেকে ৩৫ জন আইনলঙ্ঘনকারী ব্যক্তি অতর্কিতে হইচই করে তাদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে আসে। এ সময় সুনির্দিষ্ট হামলার আশঙ্কা এবং জানমালের নিরাপত্তা বিবেচনায় তিনি ও তার সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা গাড়ি থেকে নেমে অল্প সময়ের জন্য আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন।

ইশরাকের দাবি, ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিজস্ব গোয়েন্দা সূত্র থেকে তাকে নিরাপত্তাঝুঁকি এবং মাদক কারবারিদের পক্ষ থেকে ছাদ থেকে আকস্মিক গুলিবর্ষণের আশঙ্কার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। সম্ভাব্য অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি কেটে যাওয়ার পরপরই অস্ত্রটি যথাস্থানে রাখা হয়। আগ্নেয়াস্ত্রটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত এবং এটি প্রদর্শন করা হয়েছে কেবল আত্মরক্ষার স্বার্থে, আইনি কাঠামোর মধ্যে।

বিবৃতিতে প্রতিমন্ত্রী অভিযোগ করেন, প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার, দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক কালবেলাসহ কয়েকটি গণমাধ্যম খণ্ডিত তথ্য ও ছবিযুক্ত কার্ডের মাধ্যমে অপতথ্য এবং বিকৃত সংবাদ পরিবেশন করেছে।

তার দাবি, এসব সংবাদে অভিযানের সাফল্য, পুলিশের ভূমিকা, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার এবং ছয়জন অপরাধী আটকের বিষয়টি সুপরিকল্পিতভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকার ও জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। গণমাধ্যমগুলো শুধু ‘অস্ত্র হাতে প্রতিমন্ত্রীর অভিযান’ এই খণ্ডিত দৃশ্যকে চটকদার শিরোনামে প্রচার করেছে, যা স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেন তিনি।

যেকোনো সংবাদ প্রকাশের আগে এর সত্যতা যাচাই এবং পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট তুলে ধরতে গণমাধ্যমগুলোর প্রতি আহ্বান জানান ইশরাক।

বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পরপরই গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। পরে পুলিশের সরাসরি উপস্থিতি ও সহায়তায় সন্দেহভাজন আস্তানাগুলোতে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় চার থেকে পাঁচটি অবৈধ ও অস্থায়ী মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়।

অভিযানে এসব আস্তানা থেকে হেরোইন বা হেরোইনজাতীয় মাদকদ্রব্য, বিদেশি মদ, মাদক সেবনের সরঞ্জাম, বেশ কিছু দেশীয় ধারালো অস্ত্র, মাদক বিক্রির নগদ অর্থ এবং ছিনতাই করা মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত ছয়জন মাদক কারবারিকে হাতেনাতে আটক করে জব্দ করা আলামতসহ গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

ইশরাক বলেন, ঢাকা-৬ আসনের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই গেন্ডারিয়ার ঘণ্টিঘর, মুন্সিটেক, করাতিটোলা ও আশপাশের এলাকায় মাদক কেনাবেচা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের বিস্তার নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেয়ে আসছেন তিনি।

তার ভাষ্য, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে এলাকাটি মাদক সিন্ডিকেটের অন্যতম প্রধান যাতায়াতপথে পরিণত হয়। গত জুন মাসে মাদকসংক্রান্ত সহিংসতায় তিনজন নিরীহ নাগরিক গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি সরেজমিনে এলাকাটি পরিদর্শন করেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক সমন্বয় সভা করেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, জনবল সংকট দূর করা এবং মাদকের আস্তানার পাশে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট থানাকে তিনি আধাসরকারি পত্র দিয়েছেন। তবে বিষয়টি এখনো বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তিনি জানান, সর্বশেষ পুলিশ প্রশাসন এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতাদের যৌথ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাধারণ নাগরিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অংশগ্রহণে সমন্বিত সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবেই তিনি গতকাল ওই এলাকায় যান।

মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি পুনর্ব্যক্ত করে ইশরাক বলেন, মাদকের আস্তানা সম্পূর্ণরূপে উচ্ছেদ করা এবং ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত করা জনগণের কাছে তার অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। একটি ঘটনাকে খণ্ডিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রচার করে গড়ে ওঠা সামাজিক আন্দোলন স্তব্ধ করা যাবে না।

জনস্বার্থে মাদকবিরোধী অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী।