জাতীয়
ফজরের পর ঝাড়ু দেওয়া এখন আর দেখা যায় না: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিরোধীদলের উদ্দেশে বলেছেন, বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রথম কয়েক দিন ফজরের নামাজের পর কিছু লোককে ঝাড়ু দিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করতে দেখা গেলেও এখন আর সেই দৃশ্য দেখা যায় না। দেশের স্বার্থে সবাইকে কাজে নিয়োজিত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ও উদ্যানের আধুনিকায়ন কাজের উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রসঙ্গত, জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে শপথ নেওয়ার পরদিন নিজের নির্বাচনী এলাকায় ফজরের নামাজ শেষে স্থানীয় একটি মসজিদ থেকে বের হয়ে মিরপুরের রাস্তা পরিষ্কার করতে নেমেছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সে সময় সাংবাদিকদের তিনি জানিয়েছিলেন, দলের নেতাকর্মীরা প্রতিদিন ওই এলাকায় পরিচ্ছন্নতার কাজ করবেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইদানীং বিরোধীদল বিরোধিতা করার জন্যই বিরোধিতা করছে। পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ফিরে গেলে দেশকে কীভাবে সামনে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। তার মতে, বিরোধীদল অবশ্যই সরকারের সমালোচনা করবে, তবে তা হতে হবে গঠনমূলক।
তিনি সতর্ক করে বলেন, সরকারের বিরোধিতা করতে গিয়ে বিরোধীদল যদি স্বৈরাচারের ফিরে আসার পথ উন্মুক্ত করে দেয়, তাহলে তা মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাইয়ের সঙ্গে গাদ্দারি হবে।
তারেক রহমান আরও বলেন, জুলাই ও একাত্তরের শহীদদের লক্ষ্য ছিল অভিন্ন। তারা চেয়েছিলেন, এ দেশের মানুষ যেন সুশিক্ষা পায় এবং পরিবেশ ভালো থাকে। তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই বাংলাদেশ গণতন্ত্রে ফিরে এসেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বে যেভাবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়, সেভাবেই এ দেশের মানুষ ভোটের মাধ্যমে বিএনপিকে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। বিএনপি যেভাবে একাত্তরকে ধারণ করে, একইভাবে জুলাইয়ের চেতনাকেও ধারণ করে।
জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেয়েও বিরোধীদল যোগ না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের জন্য সব বিষয়ে একমত হওয়া সম্ভব নয়। তবে দেশের স্বার্থে দ্বিমত পোষণ করার কোনো কারণ নেই।
সংবিধান সংশোধন নিয়ে বিরোধীদলের ভিন্নমত থাকতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতেই জনগণ সরকার ও বিরোধীদলকে সংসদে পাঠিয়েছে। জনগণ দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা চায়। তাই রাস্তা অবরোধ ও বিক্ষোভের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত না করার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় শনিবার হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি কোয়ার্টারে আকস্মিক পরিদর্শনের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ তুলনামূলক ভালো হলেও হাসপাতাল ও সরকারি কোয়ার্টারের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ।
সরকারি কর্মকর্তারা পরিবেশের বিষয়ে সচেতন না হলে সাধারণ মানুষ কী শিখবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। একটি সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আজ থেকেই কাজ শুরু করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।