জাতীয়

ধর্মীয় বৈষম্যের সুযোগ নেই, সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৯ পিএম

ধর্মীয় বৈষম্যের সুযোগ নেই, সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে ধর্মের ভিত্তিতে কোনো ধরনের বৈষম্যের সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন ও উপাসনার স্বাধীনতা রয়েছে। সরকার সব নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে প্রবারণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দান উৎসব উপলক্ষে বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ধর্মের ভিত্তিতে কোনো নাগরিকের প্রতি বৈষম্য করা যাবে না। রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের নিজ নিজ ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও উপাসনা স্বাধীনভাবে এবং নিরাপদ পরিবেশে পালনের সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। সরকার এসব অধিকার রক্ষার পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করে যাচ্ছে।

আসন্ন প্রবারণা পূর্ণিমা ও ফানুস ওড়ানো উৎসবের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, উৎসবকে কেন্দ্র করে দেশের কোথাও যেন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, পার্বত্য তিন জেলা—খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান এবং সমতলের পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী ও রংপুর অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি রাখা হবে।

চলমান দুর্গাপূজার নিরাপত্তাব্যবস্থা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বডি-ওর্ন ক্যামেরা, সিসিটিভি ক্যামেরা ও অ্যাপভিত্তিক নজরদারির ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের মনিটরিং সেলের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোথাও কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি বা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অসত্য তথ্য ছড়িয়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা চলছে উল্লেখ করে মন্ত্রী সবাইকে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, অনেক সময় ব্যক্তিগত বিরোধ, জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধ কিংবা কোনো প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি নিয়ে বিরোধকে ধর্মীয় হামলা হিসেবে প্রচার করার চেষ্টা করা হয়। এ ধরনের অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, চলমান দুর্গোৎসব যেভাবে উৎসবমুখর ও নিরাপদ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, একইভাবে প্রবারণা পূর্ণিমা ও কঠিন চীবর দান উৎসবও শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হবে বলে তিনি আশাবাদী। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতারা প্রবারণা পূর্ণিমার ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক তাৎপর্য তুলে ধরেন। তাঁরা সংযম, আত্মশুদ্ধি ও মন-চেতনার পবিত্রতা অর্জনের গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী ফানুস ওড়ানো এবং কঠিন চীবর দান উৎসবের ধর্মীয় তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেন। এ সময় তাঁরা দেশের বিভিন্ন এলাকার বৌদ্ধ বিহারের তালিকা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তরের কথা জানান।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বৌদ্ধ বিহারগুলোর তালিকা পাওয়া গেলে তা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে পাঠানো হবে। যাতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হবে।

সভায় আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ধর্মমিত্র মহাথের, বোধিজ্ঞান ভাবনা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ আসিন জিন রক্ষিত মহাথের, উত্তরা মহাবিহারের অধ্যক্ষ মুদিতাপাল ভিক্ষু এবং ধর্মরাজিক মহাবিহারের উপাধ্যক্ষ স্বরূপানন্দ ভিক্ষুসহ বিভিন্ন বৌদ্ধ ধর্মীয় নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।