জাতীয়
সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
সব ধর্মের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ, পারস্পরিক সহযোগিতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে অবদান রেখেছেন। তাই দেশের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ নির্মাণেও সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
মঙ্গলবার রংপুরের পাগলাপীরে এক পথসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষ এ দেশের নাগরিক। বাংলাদেশ সবার, তাই দেশকে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্বও সবার। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মিলেমিশে কাজ করলে একটি সুন্দর ও প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১২ তারিখের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সরকার দেশের খেটে খাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। সমাজের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রয়োজন ও সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ইমাম, মুয়াজ্জিনসহ ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের জন্য ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শারদীয় দুর্গাপূজার প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসবের সময়। এ ধরনের উৎসব দেশের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার বন্ধন আরও দৃঢ় করে। ধর্মীয় ভিন্নতা থাকলেও দেশের সব মানুষের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখা এবং একে অপরের পাশে দাঁড়ানো জরুরি।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য সব ধর্মের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে সংগ্রাম করেছেন। সেই ঐক্যের চেতনা ধারণ করেই এখন দেশ গঠনের কাজে এগিয়ে আসতে হবে। দেশের উন্নয়ন কোনো একক গোষ্ঠীর প্রচেষ্টায় সম্ভব নয়; বরং সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ ও আন্তরিক অংশগ্রহণের মাধ্যমেই কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা রয়েছে। তাই ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বিভেদ সৃষ্টি না করে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখতে হবে। দেশের সম্পদ, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ সবার-এ উপলব্ধি থেকেই সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সবশেষে সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টা, কঠোর পরিশ্রম ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব। সবার অংশগ্রহণে একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলাই হওয়া উচিত জাতির সম্মিলিত অঙ্গীকার।