জাতীয়

দিলীপ আগরওয়ালার ৩ দিনের রিমান্ড চায় সিআইডি


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৩ পিএম

দিলীপ আগরওয়ালার ৩ দিনের রিমান্ড চায় সিআইডি
ছবি: সংগৃহীত

চোরাচালানের মাধ্যমে অবৈধ স্বর্ণ ও হীরা কেনাবেচা এবং অর্থপাচারের অভিযোগে করা মামলায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মামলায় প্রায় ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ টাকার স্বর্ণ ও হীরা কেনাবেচার অভিযোগ আনা হয়েছে।

মঙ্গলবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডির উপপরিদর্শক মো. আশরাফুল হাসান এ রিমান্ডের আবেদন করেন। এ বিষয়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফুল ইসলামের আদালতে বিকেল ৩টায় শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, সিআইডির দায়ের করা এ মামলায় সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলাটি গত বছরের নভেম্বরে রাজধানীর গুলশান থানায় দায়ের করা হয়। সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান শেখ বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে রাজধানীর গুলশান অ্যাভিনিউয়ে অবস্থিত ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের শোরুম ও কার্যালয়কে কেন্দ্র করে কথিত অপরাধগুলো সংঘটিত হয়। সিআইডির অনুসন্ধানে প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও জিজ্ঞাসাবাদ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এসব অভিযোগ আনা হয়েছে।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, দিলীপ কুমার আগরওয়ালার প্রতিষ্ঠান ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড বৈধভাবে ঋণপত্রের (এলসি) মাধ্যমে বিদেশ থেকে ৩৮ কোটি ৪৭ লাখ ৪৮ হাজার ১১ টাকা ৫২ পয়সার স্বর্ণবার, স্বর্ণালংকার, খোলা হীরা ও অন্যান্য অলংকার আমদানি করে। তবে একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় বাজার থেকে মোট ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ ১৪ হাজার ১৪ টাকার স্বর্ণ ও হীরা কেনা, বিনিময় কিংবা রূপান্তর করেছে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

সিআইডির অভিযোগ, স্থানীয় বাজার থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ও হীরা কেনার ক্ষেত্রে সেগুলোর উৎস এবং বিক্রেতাদের পরিচয় সম্পর্কে প্রয়োজনীয় বৈধ নথিপত্র তদন্ত কর্মকর্তার কাছে উপস্থাপন করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। এ কারণে এসব স্বর্ণ ও হীরার উৎস এবং লেনদেনের প্রকৃতি নিয়ে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রাথমিক অনুসন্ধানের বরাতে সিআইডি আরও অভিযোগ করেছে, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড ও ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডকে ব্যবহার করে দিলীপ কুমার আগরওয়ালা দীর্ঘদিন ধরে চোরাচালানের মাধ্যমে অবৈধ স্বর্ণ ও হীরা কেনাবেচা করেছেন। এভাবে তিনি ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ ১৪ হাজার ১৪ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। এসব লেনদেনের সঙ্গে অর্থপাচারের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা মামলার তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

এর আগে ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে গ্রেপ্তার করেছিল র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করা হয় এবং পরে একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওই দিন আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন হত্যা মামলায়ও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এসব মামলায় তার আইনজীবীরা নিম্ন ও উচ্চ আদালতে জামিনের আবেদন করেন। সব মামলায় জামিন পাওয়ার পর ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।

বর্তমানে স্বর্ণ ও হীরা কেনাবেচা এবং অর্থপাচারের অভিযোগে করা নতুন মামলায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছে সিআইডি। আদালত রিমান্ডের আবেদন মঞ্জুর করবেন কি না, তা শুনানি শেষে জানা যাবে। মামলার অভিযোগগুলো তদন্তাধীন; আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত এগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।