জাতীয়

শান্তি-শৃঙ্খলা চায় না একাত্তর ও চব্বিশের পরাজিত শক্তি: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৫ পিএম

শান্তি-শৃঙ্খলা চায় না একাত্তর ও চব্বিশের পরাজিত শক্তি: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

সমাজে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় থাকুক, একাত্তর ও চব্বিশের পরাজিত শক্তিগুলো তা চায় না বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এই দুই শক্তির মেলবন্ধনে যাতে সমাজে অস্থিরতা ও অরাজকতা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (তারিখ উল্লেখ নেই) দিনভর যশোর সদর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় প্রতিমন্ত্রী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং মহানবমী উপলক্ষে তাদের শুভেচ্ছা জানান।

সকালে আরবপুর ইউনিয়নের খোলাডাঙ্গা কালিতলা আদিবাসী মন্দির পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু করেন প্রতিমন্ত্রী। সেখানে উপস্থিত নারী-পুরুষেরা উলুধ্বনি ও ফুল দিয়ে তাকে স্বাগত জানান। পরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, মসজিদ ও মন্দিরকে রাজনীতির বাইরে রাখতে হবে। ধর্মকে পুঁজি করে কেউ যেন মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ধর্মীয় কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কাউকে দুর্বল বা সবল হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। যশোরের মাটিতে তার যেমন অধিকার রয়েছে, তেমনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সন্তানদেরও সমান অধিকার রয়েছে। বিএনপি কখনো হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টিতে বিশ্বাস করে না। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দলকে সেই শিক্ষাই দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৈষম্যহীনভাবে মসজিদ, মন্দির, কবরস্থান ও শ্মশানের উন্নয়নে কাজ করছেন। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের মূল চেতনা ছিল একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সমাজ থেকে মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাস নির্মূল করতে হবে। রাজনৈতিক কিংবা পারিবারিক পরিচয় বিবেচনা না করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াই সরকারের লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা কামনা করেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতিময় সমাজ গঠনে সব ধর্মের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং যেকোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা প্রতিরোধে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

পরে প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ক্রমে যশোর সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এর মধ্যে ছিল দেয়াড়া ইউনিয়নের চান্দুটিয়া সার্বজনীন পূজামণ্ডপ, চূড়ামনকাটি দাশপাড়া, কাশিমপুরের বিজয়নগর কুন্ডুপাড়া এবং নওয়াপাড়ার বাহাদুরপুর সার্বজনীন দুর্গামন্দির। এসব স্থানে তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং পূজার সার্বিক খোঁজখবর নেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, আদিবাসী মন্দির কমিটির সভাপতি মিন্টু কর্মকার, সাধারণ সম্পাদক বরুণ কর্মকারসহ স্থানীয় বিএনপি ও পূজা উদ্‌যাপন কমিটির নেতারা।