জাতীয়

বাসা থেকে আইস, ইয়াবা ও মদ উদ্ধার, অতিরিক্ত ডিআইজি জহিরকে ওএসডি


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৮ পিএম

বাসা থেকে আইস, ইয়াবা ও মদ উদ্ধার, অতিরিক্ত ডিআইজি জহিরকে ওএসডি
ছবি: সংগৃহীত

বাসা থেকে বিভিন্ন ধরনের মাদক উদ্ধারের ঘটনার পর পুলিশ সদরদপ্তরের রিপেয়ার অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স শাখার অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আবদুল্লাহ আল জহিরকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে।

মঙ্গলবার পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকিরের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তাকে পুলিশ সদরদপ্তরের সদরদপ্তর শাখায় সংযুক্ত করা হয়। আদেশে বলা হয়েছে, এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।

এর আগে সোমবার রাতে রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় আবদুল্লাহ আল জহিরের ভাড়া দেওয়া একটি বাসায় অভিযান চালায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। অভিযানে আইস, সিসা, ইয়াবা, মদ, গাঁজা ও কুশসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক উদ্ধার করা হয়। এ সময় ২৬ নারীসহ মোট ৮৪ জনকে আটক করে পুলিশ।

মঙ্গলবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, বাসাটিতে দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন ও অবৈধ ডিজে পার্টি চলছিল। এ কারণে সেখানে অভিযান চালানো হয়েছে। বাসাটি ওই পুলিশ কর্মকর্তা ভাড়া দিয়েছেন, তবে তিনি সেখানে থাকেন না।

গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকার ৩০০ ফিট এলাকায় পুলিশ অফিসার্স হাউজিং সোসাইটি ১ নম্বরে অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহিরের একটি প্লট রয়েছে। সেখানে পাঁচটি কক্ষ নির্মাণ করে অনলাইনে স্বল্পমেয়াদি বাসা ভাড়ার ওয়েবসাইটে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল।

সূত্রের দাবি, ওই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তরুণ তরুণীসহ বিভিন্ন ব্যক্তি কক্ষগুলো ভাড়া নিয়ে ডিজে পার্টি, মাদক সেবনসহ নানা কর্মকাণ্ডে জড়িত হতেন। দীর্ঘদিন ধরে এসব কার্যক্রম চলার তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়।

অভিযানে বিভিন্ন ধরনের মাদক ছাড়াও ডিজে পার্টির আড়ালে মাদক সেবন ও অন্যান্য কর্মকাণ্ডের আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া কয়েকটি গাড়িও জব্দ করা হয়েছে। কক্ষগুলো পরিচালনার দায়িত্বে থাকা মাহবুব নামের এক ব্যক্তিসহ মোট ৮৪ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ২৬ জন নারী রয়েছেন।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহির বলেন, সোমবার একটি জন্মদিনের অনুষ্ঠানের জন্য বাসাটি ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। ভাড়া নেওয়া ব্যক্তিদের কী করা যাবে এবং কী করা যাবে না, সে বিষয়ে নিয়ম জানিয়ে দেওয়া হয়। নিয়ম ভঙ্গ করলে এক লাখ টাকা জরিমানার বিধানও রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যারা বাসাটি ভাড়া নিয়েছিলেন, তারাই নিয়ম ভঙ্গ করেছেন। এ ঘটনায় তাদের পক্ষ থেকে কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন তিনি।