জাতীয়
ধর্ম যার যার, অধিকার সবার-আমরা সবাই বাংলাদেশের মানুষ: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী
ধর্মীয় পরিচয় ভিন্ন হলেও আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক এবং এ দেশের মাটির সঙ্গে আমাদের সবার সম্পর্ক এক-এমন মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেছেন, ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজন নয়, বরং পারস্পরিক সম্প্রীতি, সমান অধিকার ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।
মঙ্গলবার রাতে দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার চন্ডিপুর পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা, সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করা এবং অপরাধ দমনে আইনের যথাযথ প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মন্ত্রী বলেন, “আমি এমপি হয়েছি, মন্ত্রী হয়েছি বলে আইন আমার জন্য আলাদাভাবে চলবে, এমন নয়। আইন আপনার জন্য যা, আমার জন্যও তা-ই।” তিনি আরও বলেন, হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে ধর্মীয় পরিচয়ের পার্থক্য থাকলেও জাতীয় পরিচয়ের ক্ষেত্রে সবাই বাংলাদেশি। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কাউকে আলাদা করে দেখা বা বিভাজন সৃষ্টি করা উচিত নয়।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, সমাজের প্রতিটি স্তরে সরকার সবার জন্য সমানভাবে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বৈষম্য বা পক্ষপাতিত্বের সুযোগ নেই। দেশের আইন নিজস্ব গতিতে চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন, তাকে কোনো অবস্থাতেই ছাড় দেওয়া হবে না। আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান এবং অপরাধের বিচারও আইন অনুযায়ী হতে হবে।
ধর্মীয় সম্প্রীতির গুরুত্ব তুলে ধরে ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, কোনো ধর্মই অন্যায় বা খারাপ কাজকে উৎসাহিত করে না। সব ধর্মের মূল শিক্ষা হলো শান্তি, মানবিকতা ও মানুষের কল্যাণ। তাই প্রত্যেকের উচিত নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস ও মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার পাশাপাশি অন্যের ধর্মীয় অনুভূতি ও অধিকারকে সম্মান করা। আগামী দিনে দুর্গাপূজাসহ সব ধর্মীয় উৎসব আরও সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে উদ্যাপনের জন্য সরকার সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
বর্তমান সরকারের প্রায় আট মাসের কার্যক্রম তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সরকার শুধু ক্ষমতায় বসে থাকার জন্য নয়, বরং দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দেশের উন্নয়ন ও মানুষের জীবনমানের অগ্রগতিতে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়াই সরকারের লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, “এই দেশের মাটি আমাদের সবার। আমরা কেউ বাইরে থেকে আসিনি। সব সময় আমি একটি কথা বলি-আপনার রক্ত লাল, আমার রক্তও লাল। আপনার একটি ভোট, আমারও একটি ভোট। এখানে আপনার অধিকার যেমন সমান, আমার অধিকারও তেমন সমান।” তাঁর মতে, দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করা এবং ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবাইকে মর্যাদা দেওয়ার মধ্য দিয়েই একটি বৈষম্যহীন ও সম্প্রীতিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদ্যাপনের ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে সব ধর্মের মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক অটুট রাখার আহ্বান জানান তিনি।