জাতীয়
ব্যাংক খাত থেকে ৪০ বিলিয়ন ডলার লুটের অভিযোগ, দায়ী আ.লীগ সরকার: তিতুমীর
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের ব্যাংক খাত থেকে ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তাঁর দাবি, বিগত সরকারের সময়ে ব্যাংকব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে। সেই ক্ষতি কাটিয়ে দেশের অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করতে সরকার বিভিন্ন সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
বুধবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে রাজবাড়ী পৌরসভা মিলনায়তনে জেলায় কর্মরত সংবাদকর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, সংস্কার বাস্তবায়ন না হলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধারা নিম্নমুখী হবে—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত এমন তথ্য সঠিক নয়; বরং তা অপতথ্য। সরকার নিজস্ব উদ্যোগে সংস্কার কর্মসূচি নির্ধারণ করেছে। ব্যাংক খাত ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) কী ধরনের সংস্কার প্রয়োজন, তা চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এই প্রথম সরকার নিজস্ব সংস্কার কর্মসূচির অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছে। এসব অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের বেশ কিছু লক্ষণ দেখা যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন এই উপদেষ্টা।
বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, এ লক্ষ্য সামনে রেখে ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও অন্যান্য ব্যাংকের সহযোগিতায় বেসরকারি খাতে ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থের প্রবাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে সরকার। এর ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
ব্যাংক খাতের সংকট প্রসঙ্গে তিতুমীর বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ব্যাংকব্যবস্থাকে দুর্বল অবস্থায় রেখে গেছে। ব্যাংক খাতের তহবিলের ঘাটতি পূরণ এবং লুট হওয়া অর্থের কারণে সৃষ্ট ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা কলকারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। উৎপাদনশীল খাতকে সচল করার পাশাপাশি কর্মসংস্থান বাড়ানোও এসব উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
দেশের দারিদ্র্য পরিস্থিতি তুলে ধরে অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, বিগত সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতির প্রভাবে দেশে দারিদ্র্য বেড়েছে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৮০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছেন। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ড বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, এসব কর্মসূচি দরিদ্র মানুষের আর্থিক চাপ কমানোর পাশাপাশি কৃষকদের সহায়তা এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে ভূমিকা রাখবে।
জ্বালানি নীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ভুল জ্বালানি নীতির কারণে দেশে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার প্রসারের সুযোগ থাকলেও আগের সরকার এ খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর ভাষ্য, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিল্পকারখানার উৎপাদন সচল রাখতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে অর্থনীতি ও বিভিন্ন খাতে হতাশাজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় রাজবাড়ী জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়া, জেলা তথ্য কর্মকর্তা রেখা এবং জেলায় কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।