জাতীয়
কঠোর নিরাপত্তায় রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের তৃতীয় চালান
পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে পৌঁছেছে পারমাণবিক জ্বালানি ইউরেনিয়ামের তৃতীয় চালান। বুধবার সকাল ১০টা ৩ মিনিটে সেনাবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তাবলয়ে জ্বালানিবাহী গাড়িগুলো প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে। কেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি সরবরাহ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ চালান আনা হয়েছে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য মোট সাতটি কার্গোতে ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি প্রথম ইউনিটের জ্বালানি পুনঃস্থাপন বা রিফুয়েলিংয়ের জন্য দুটি কার্গোতে অতিরিক্ত ৪৮টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি দেশে আনার কথা রয়েছে। নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসব জ্বালানি পর্যায়ক্রমে রাশিয়া থেকে বাংলাদেশে পৌঁছাবে।
সূত্র জানায়, আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বরের মধ্যে আরও আটটি ফ্লাইটে ইউরেনিয়ামের অবশিষ্ট চালান দেশে আসার কথা রয়েছে। এসব চালান রাশিয়া থেকে কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ভারত হয়ে বাংলাদেশে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রসাটম জানিয়েছে, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই জ্বালানি সরবরাহের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে রাশিয়া থেকে পারমাণবিক জ্বালানিবাহী একটি বিশেষ বিমান ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পরে বিমানবন্দরে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের কর্মকর্তারা জ্বালানি গ্রহণ করেন। বুধবার ভোরে তিনটি বিশেষ লরিতে করে সংবেদনশীল এই জ্বালানি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উদ্দেশে রওনা হয়। ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করে বঙ্গবন্ধু সেতু পার হয়ে নাটোরের বনপাড়া ও পাবনার ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া হয়ে নির্ধারিত পথে লরিগুলো প্রকল্প এলাকায় পৌঁছায়।
জ্বালানি পরিবহনের পুরো যাত্রাপথে নেওয়া হয় বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা। মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সেনাবাহিনীর পাশাপাশি এসএসএফ এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নিরাপত্তা কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া জ্বালানিবাহী গাড়িগুলোর নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে এবং সম্ভাব্য যানজট এড়াতে যাত্রাপথে সাময়িকভাবে ভারী যানবাহন চলাচল সীমিত রাখা হয়।
এর আগে গত ৩ অক্টোবর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জ্বালানি পুনঃস্থাপন এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য আনা পারমাণবিক জ্বালানির একটি চালান প্রকল্প এলাকায় পৌঁছায়। ধারাবাহিকভাবে জ্বালানি সরবরাহের এ কার্যক্রম কেন্দ্রটির দুই ইউনিটের পরিচালনাসংক্রান্ত প্রস্তুতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য প্রথমবারের মতো পারমাণবিক জ্বালানি বাংলাদেশে আনা হয়। চলতি বছরের মে মাসে সেই জ্বালানি পারমাণবিক চুল্লিতে স্থাপন করা হয়। কেন্দ্রটি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার প্রস্তুতি চলছে বলে আশা করা হচ্ছে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গত ১১ অক্টোবর দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরের প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্রটির কমিশনিং কার্যক্রমে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে গেলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।