জাতীয়

মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে আধুনিকায়নের কাজ দ্রুত করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৭ পিএম

মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে আধুনিকায়নের কাজ দ্রুত করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলা বন্দরের সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, পণ্য খালাসের গতি বাড়ানো এবং অবকাঠামো আধুনিকায়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে মোংলা বন্দরের জেটি এলাকায় পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী বন্দরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনকালে তিনি বন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প, জেটি সুবিধা, কনটেইনার ইয়ার্ডসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। বন্দরের বর্তমান পরিচালন সক্ষমতা, পণ্য ওঠানামার সুবিধা এবং ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা সম্পর্কেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী মোংলা বন্দরের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি পণ্যের দ্রুত খালাস ও পরিবহন নিশ্চিত করা, বন্দরের সেবার মান উন্নত করা এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ কার্যক্রম যথাসময়ে বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে উপকূলীয় দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বৃদ্ধি এবং মোংলা বন্দরের সক্ষমতা পর্যালোচনার উদ্দেশ্যে সরকারি সফরে মোংলায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সকাল ১০টার দিকে তিনি সেখানে যান। এর আগে খুলনা ও সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকার বিভিন্ন স্থান হেলিকপ্টার ও জলযানে ঘুরে দেখেন তিনি। পরে নৌবাহিনীর বানৌজা মোংলা ঘাঁটিতে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী।

সেখান থেকে তিনি সরাসরি মোংলা বন্দরের জেটি এলাকায় যান। বন্দরের প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশের সময় সেখানে উপস্থিত বিএনপির নেতাকর্মীরা তাঁকে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় বন্দরের সার্বিক কার্যক্রম, চলমান উন্নয়ন প্রকল্প এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য নেওয়ার পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর এ পরিদর্শনের সময় মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের সঙ্গে বন্দরের পরিচালন কার্যক্রম, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন তিনি।

বন্দর পরিদর্শন শেষে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্প পর্যালোচনা করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এসব প্রকল্পের অগ্রগতি ও সম্ভাবনা যাচাইয়ের মাধ্যমে উপকূলীয় দক্ষিণাঞ্চলে বিনিয়োগ, শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়গুলোও গুরুত্ব পেতে পারে। সফর শেষে তাঁর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।

মোংলা বন্দর দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন, পণ্য পরিবহনের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এর ভূমিকা আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো ও উন্নয়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।