জাতীয়
বিগত সরকার প্রকল্পের নামে লুটপাট করেছে: পর্যটনমন্ত্রী
দেশের পর্যটন খাতকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা, পর্যটনকেন্দ্রগুলোর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে আন্তর্জাতিক পরিকল্পনাবিদদের মাধ্যমে মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের সময়ে বিভিন্ন প্রকল্পের নামে লুটপাট হয়েছে এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে যথাযথ পরিকল্পনার অভাব ছিল। বর্তমান সরকার পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে পর্যটন খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে চায় বলেও জানান তিনি।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় দুই দিনব্যাপী পর্যটন কার্নিভালে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন পর্যটনমন্ত্রী।
এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ‘বিগত সরকারের সব কর্মকাণ্ড ছিল অপরিকল্পিত। বিভিন্ন প্রকল্পের নামে শুধু লুটপাট হয়েছে। তাই আমাদের সরকারের লক্ষ্য পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করা।’ তিনি জানান, পর্যটন খাতের উন্নয়নে বিচ্ছিন্নভাবে প্রকল্প গ্রহণ না করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ভিত্তিতে কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
পর্যটনমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজার ও কুয়াকাটাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় দেড় হাজার পর্যটনকেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্রের বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও সেখান থেকে প্রত্যাশিত রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না। যথাযথ পরিকল্পনা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পর্যটকবান্ধব পরিবেশ এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এসব পর্যটনকেন্দ্রকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, দেশের পর্যটন খাতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়াতে আন্তর্জাতিক মানের পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে। এর মাধ্যমে পর্যটনকেন্দ্রগুলোর উন্নয়ন, বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধার সম্প্রসারণ এবং নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্র তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে। পরিকল্পিতভাবে পর্যটন খাতের উন্নয়ন করা গেলে দেশের অর্থনীতিতে এ খাতের অবদান আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকী জানিয়েছেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে ভাঙ্গা-বরিশাল চার লেন সড়ক প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন পেতে পারে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে কুয়াকাটায় যাতায়াত আরও সহজ হবে এবং পর্যটন খাতের বিকাশে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বরিশাল-কুয়াকাটা সড়কটিও চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোর মধ্যে যোগাযোগব্যবস্থা আরও উন্নত হবে। পাশাপাশি পর্যটক ও সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াতের সুবিধা বাড়বে এবং এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
জোনায়েদ সাকী বলেন, বর্তমান সরকার সব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড মহাপরিকল্পনার আওতায় বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিচ্ছে। পরিকল্পনাভিত্তিক উন্নয়ন কার্যক্রমের ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা কমবে এবং সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সমন্বয় বাড়বে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মতবিনিময় সভায় পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেনসহ বরিশাল ও পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।