রাজনীতি
গুমের মাস্টারমাইন্ডদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জামায়াত আমিরের
গুমের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ব্যক্তি ও এর নেপথ্যের মূল হোতাদের বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
আন্তর্জাতিক গুম দিবস উপলক্ষে শনিবার (২৯ আগস্ট) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে শফিকুর রহমান বলেন, বছরের পর বছর ধরে নিখোঁজ স্বজনের অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলো গভীর মানসিক যন্ত্রণা ও মানবিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ করে তিনি তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
তিনি অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সাত শতাধিক মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন। বিরোধী মত দমনের উদ্দেশ্যে ‘আয়নাঘর’-এর মতো গোপন বন্দিশালা তৈরি করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, দীর্ঘ আট বছর গুম ও বন্দিদশায় থাকার পর সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহিল আমান আযমী এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার আরমান আহমদ বিন কাসেম ফিরে এলেও অনেক নিখোঁজ ব্যক্তি এখনো ফেরেননি। তাদের মধ্যে জামায়াত নেতা হাফেজ জাকির হোসাইন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিবির নেতা আল মোকাদ্দাস ও মোহাম্মদ ওলিউল্লাহ, বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী এবং সাবেক কমিশনার চৌধুরী আলমের নাম উল্লেখ করেন তিনি।
গুম প্রতিরোধ ও এর সঙ্গে জড়িতদের বিচারের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করেছিল বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করেন শফিকুর রহমান। তবে পরবর্তী সরকার অধ্যাদেশটি আইনে পরিণত না করে নতুন খসড়া প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
নতুন খসড়া আইনে গুমের মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্তের দায়িত্ব পুলিশকে দেওয়ার সমালোচনা করেন জামায়াত আমির। তার মতে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্তভার আবার একই বাহিনীর হাতে দেওয়া হলে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হবে। এ কারণে গুমকে বিশেষ অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে পৃথক ও স্বাধীন আইনি কাঠামো গঠনের দাবি জানান তিনি।
এ ছাড়া গুম সংক্রান্ত তথ্যভাণ্ডার সরকারের অধীনে রাখার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে গুম সংক্রান্ত তদন্ত ও অনুসন্ধান থেকে বাদ দেওয়ার সমালোচনা করেন তিনি।
বিবৃতিতে তিনি গুম ও নিখোঁজ সব নাগরিককে দ্রুত উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি গুমের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ব্যক্তি এবং এর নেপথ্যের মূল হোতাদের বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।