রাজনীতি

বাড়াবাড়ি করলে পুরো নির্বাচন কমিশন দিন-রাত ঘেরাও করে বসে থাকব: জামায়াত আমির


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৩ পিএম

বাড়াবাড়ি করলে পুরো নির্বাচন কমিশন দিন-রাত ঘেরাও করে বসে থাকব: জামায়াত আমির
ছবি: সংগৃহীত

নির্বাচন ও ভোটগ্রহণে কোনো ধরনের অনিয়ম, কারচুপি কিংবা বাড়াবাড়ি করা হলে পুরো নির্বাচন কমিশন দিন-রাত ঘেরাও করে অবস্থান নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, দেশে আর কাউকে ভোট চুরির সুযোগ দেওয়া হবে না। জনগণের ভোটাধিকার ও নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে কঠোর অবস্থান নেবে জামায়াতে ইসলামী।

শুক্রবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় নির্বাচন কমিশনের প্রতি সতর্কবার্তা উচ্চারণের পাশাপাশি জনগণের ভোটাধিকার রক্ষা এবং নির্বাচনে অনিয়ম প্রতিরোধে দলীয় নেতা-কর্মীদের সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

নির্বাচন কমিশনকে উদ্দেশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এবার আমাদের স্পষ্ট ঘোষণা-বাড়াবাড়ি করলে পুরো নির্বাচন কমিশন দিন-রাত ঘেরাও করে বসে থাকব। কাউকে কোনো বাড়াবাড়ি করতে দেওয়া হবে না। আর কোনো চোরকে ভোট চুরি করতে দেওয়া যাবে না।’ তাঁর এই বক্তব্যে নির্বাচনে অনিয়ম ও ভোট কারচুপির বিরুদ্ধে দলের কঠোর অবস্থানের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

জনগণের রায় নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, দেশ ও দেশের মানুষ কোনো রাজনৈতিক দলের কাছে ইজারা দেওয়া হয়নি। জনগণই নির্ধারণ করবে, কারা দেশ পরিচালনা করবে এবং কারা সমাজ পরিচালনার দায়িত্ব পাবে। তাই নির্বাচনে জনগণের মতামতের যথাযথ প্রতিফলন নিশ্চিত করা এবং ভোটাধিকারকে সম্মান জানানো জরুরি।

সম্মেলনে দলীয় রুকনদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর প্রতি আস্থা বাড়ছে। এই আস্থা ধরে রাখতে প্রতিটি এলাকায় দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে দুর্ভেদ্য প্রাচীর গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে আসন্ন নির্বাচনে ভোটের দিন কেন্দ্রগুলোতে সতর্ক অবস্থান নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। ভোটগ্রহণ শেষে ভোট গণনা পর্যবেক্ষণ এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী ফলাফল নিশ্চিত করার বিষয়েও নেতা-কর্মীদের প্রস্তুত থাকার তাগিদ দেন।

সিটি করপোরেশন নির্বাচন প্রসঙ্গেও দলীয় নেতা-কর্মীদের সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, মেয়র কিংবা কাউন্সিলর-কোনো পদেই দুর্বল প্রার্থী দেওয়া যাবে না। কোনো আসন বা পদ ফাঁকা রাখা যাবে না; বরং সব জায়গায় যোগ্য প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিশ্চিত করতে হবে। তাঁর মতে, নির্বাচনে শক্তিশালী প্রার্থী দেওয়ার মাধ্যমে দলকে সাংগঠনিকভাবে আরও সক্রিয় ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অবস্থানে নিতে হবে।

সমাজে অবিচার, অনিয়ম কিংবা অন্যায়ের ঘটনা ঘটলে জামায়াতে ইসলামী নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন দলটির আমির। তিনি জানান, এ ধরনের পরিস্থিতিতে নিয়মতান্ত্রিকভাবে রাজপথে প্রতিবাদ জানানো হবে। মানুষের ভোটাধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে প্রয়োজনে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলার কথাও বলেন তিনি।

সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান নির্বাচনের স্বচ্ছতা, জনগণের ভোটাধিকার সংরক্ষণ, দলীয় সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে নির্বাচন পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিরপেক্ষতা বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।