রাজনীতি
বিএনপির একক প্রার্থী তালিকায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত, অন্তত ২৩ আসনে তীব্র বিরোধ
বিএনপি ঘোষিত ২৩৮টি আসনে একক প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর মাঠে নেমেছেন মনোনীত নেতারা। তবে বেশ কয়েকটি আসনে দেখা দিয়েছে তীব্র অসন্তোষ ও বিরোধ।
মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের ক্ষোভ, স্থানীয় পর্যায়ে সংঘর্ষ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার আশঙ্কা—সব মিলিয়ে বিএনপি ঘোষিত তালিকায় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দলীয় নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, মাঠপর্যায়ের আচরণ, ত্যাগী নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় এবং ঐক্য তৈরির সক্ষমতার ভিত্তিতে প্রার্থী তালিকা পুনর্বিবেচনা করা হবে।
ঘোষিত আসনগুলোর মধ্যে অন্তত ২৩টিতে বিদ্রোহ ও ক্ষোভের আগুন আরও তীব্র হয়েছে। মনোনয়নবঞ্চিত নেতাদের অনেকেই শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। তদন্তে উঠে এসেছে-পুনর্মূল্যায়ন না হলে কয়েকজন বঞ্চিত নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে নামতে পারেন। বিএনপি মনে করছে, এতে ভোট ভাগাভাগির ফলে সুবিধা পেতে পারে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলো।
নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, প্রার্থী ঘোষণার পর যারা একক প্রার্থী হয়েছেন, তারা ত্যাগী নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করছেন কি না, বিরোধ দূর করতে উদ্যোগ নিচ্ছেন কি না- এসব বিষয় নিরপেক্ষভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কেউ ঐক্য তৈরির সুযোগ ব্যাহত করলে বা দলকে বিভক্তির দিকে ঠেলে দিলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত আছে। একই সঙ্গে যারা সমন্বয় করতে ব্যর্থ হবেন, তাদের মনোনয়নও বাতিল হতে পারে।
ফাঁকা থাকা ৬৩ আসনের বেশ কয়েকটিতে শরিক দলগুলোর জন্য আসন ছাড় দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চলতি মাসের শেষের দিকে গুলশানে শরিক দলগুলোর সঙ্গে আসন ভাগাভাগি নিয়ে বৈঠক করবে বিএনপি। এর আগে অন্তত ১১টি আসনে নতুন করে সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা হতে পারে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, কয়েকটি আসনে ক্ষোভ থাকলেও দল বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি বলেন, ফাঁকা সব আসনই শরিকদের জন্য রাখা হবে না। কিছু আসনে শিগগিরই দলীয় সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা করা হবে।
ঘোষিত প্রার্থী তালিকার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন আসনে বিক্ষোভ, মশাল মিছিল, সংঘর্ষ ও মানববন্ধনের ঘটনা ঘটছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু আসন হলো—
সাতক্ষীরা-২: প্রার্থী আবদুর রউফের পরিবর্তে আব্দুল আলিমকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ ও আবেদন।
সাতক্ষীরা-৩: ডা. শহিদুল আলমকে বাদ দিয়ে কাজী আলাউদ্দীনকে মনোনয়ন দেওয়ায় বড় ধরনের বিক্ষোভ।
ময়মনসিংহ-৩: দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত অন্তত ৮ জন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ ও ৫: প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ।
সিলেট-৪: আবদুল হাকিম চৌধুরীর সমর্থকদের মশাল মিছিল।
হবিগঞ্জ-৪, রংপুর-৩, কক্সবাজার-৪, মেহেরপুর-২, নারায়ণগঞ্জ-২: তীব্র বিরোধ, প্রার্থী পুনর্বিবেচনার দাবি।
চট্টগ্রাম-২ ও ৪: বিক্ষোভ থেকে আগুন পর্যন্ত—বিরোধ তীব্র।
নাটোর-১: পুতুলের মনোনয়ন নিয়ে টানা বিক্ষোভ ও শক্ত গণসমাবেশ।
এছাড়াও নোয়াখালী-৫, ঠাকুরগাঁও-৩, রাজশাহী-৪ ও ৫সহ বেশ কয়েকটি আসনেও অসন্তোষ রয়েছে।
বিএনপির একাধিক নীতিনির্ধারক সূত্র বলছে, মনোনয়নবঞ্চিত কিছু জনপ্রিয় নেতাকে অন্য দলগুলো স্বতন্ত্র প্রার্থী করার প্রস্তাব দিচ্ছে, এমনকি আর্থিক প্রলোভনও দেওয়া হচ্ছে। এতে বিএনপির ভোট ব্যাংক বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই প্রার্থী পরিবর্তন নিয়মতান্ত্রিকভাবে হলেও তা হতে পারে স্থানীয় নেতাদের মতামতের ভিত্তিতে।
ফাঁকা থাকা আসনগুলোর মধ্যে অন্তত ১১টিতে শিগগিরই প্রার্থী ঘোষণা করা হতে পারে। এগুলো হলো— ঢাকা-৯, ঢাকা-১৮, ঢাকা-২০, মাদারীপুর-২, গাজীপুর-১, টাঙ্গাইল-৫, চট্টগ্রাম-৬, চট্টগ্রাম-৯, চট্টগ্রাম-১১, ঝিনাইদহ-৪ ও সিরাজগঞ্জ-১।
ঘোষিত একক প্রার্থী তালিকা নিয়ে বিএনপির ভেতরে বিরোধ দমনে নানামুখী উদ্যোগ রয়েছে। মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি, স্থানীয় নেতাদের মতামত এবং শরিকদের দাবির ভিত্তিতে একাধিক আসনে পরিবর্তন আসতে পারে। দলের হাইকমান্ড জানিয়েছে- ধানের শীষের বিজয়ের স্বার্থেই প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করার আগে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।