রাজনীতি
১৫ বছর শুধু বগুড়া নয় সমগ্র বাংলাদেশ বঞ্চিত ছিল: তারেক রহমান
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, গত ১৫ বছরে শুধু বগুড়াই নয়, পুরো বাংলাদেশই প্রকৃত অর্থে বঞ্চিত হয়েছে। তিনি বলেন, এই সময়কালে দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার, উন্নয়ন ও সুশাসনের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।
বৃহস্পতিবার রাতে বগুড়ার আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে আয়োজিত বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বগুড়ার মানুষের সঙ্গে নিজের অতীত স্মৃতির কথা তুলে ধরে বলেন, প্রায় ১৯ বছর আগে তিনি যখন দেশে ছিলেন, তখন বগুড়ার উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সে সময় জেলার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা এবং গ্যাস সংযোগসহ নানা ক্ষেত্রে কাজ করা হয়। তিনি উল্লেখ করেন, সব কাজ শতভাগ সফল না হলেও সরকারের নিয়ম-নীতির মধ্যে থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, বনানী-মাটিডালি সড়ক প্রশস্তকরণ, শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের উন্নয়ন, গ্যাস লাইন সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে বগুড়াকে একটি ‘মডেল জেলা’ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বগুড়াকে সামনে রেখে দেশের অন্যান্য ৬৩টি জেলার উন্নয়ন পরিকল্পনার একটি রূপরেখা তৈরি করা হয়েছিল, যাতে একটি জেলার মানুষের মৌলিক চাহিদা কীভাবে পূরণ করা যায়, তার বাস্তব উদাহরণ তৈরি হয়।
বিএনপি চেয়ারম্যান দাবি করেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সময়ে বগুড়ায় যে উন্নয়ন হয়েছে, তা দেশের অনেক জেলার তুলনায় বেশি ও মানসম্পন্ন ছিল। তিনি বলেন, একটি জেলার মানুষের চলার জন্য প্রয়োজনীয় বেশিরভাগ সুযোগ-সুবিধাই তখন বগুড়ায় নিশ্চিত করা হয়েছিল, ফলে সামান্য কিছু প্রয়োজন ছাড়া রাজধানীতে যাওয়ার দরকার হতো না।
আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, এই নির্বাচন শুধু সরকার পরিবর্তনের বিষয় নয়; বরং এটি দেশের গণতন্ত্র, জবাবদিহিতা এবং ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনার প্রশ্ন। তিনি বগুড়াবাসীকে নির্বাচন নিয়ে সচেতন ও দায়িত্বশীল থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের প্রত্যাশিত লক্ষ্য অর্জনে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা শক্তিশালী করা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি আরও বলেন, অতীতে বগুড়াকে যেভাবে দেখেছেন, ভবিষ্যতেও সেভাবেই দেখবেন। তবে এখন তার দৃষ্টিভঙ্গি আরও বিস্তৃত—শুধু বগুড়া নয়, সমগ্র দেশের উন্নয়নকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। তার মতে, গত দেড় দশকে দেশের বিভিন্ন খাতে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি; বরং জনগণ ন্যায্য সেবা ও সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
দেশের স্বাস্থ্য, কৃষি ও শিক্ষা খাতের অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, মানুষ পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা পায়নি, কৃষকরা প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছে এবং শিক্ষা ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শিল্প খাতেও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার অভিযোগ, বড় বড় প্রকল্পের নামে দুর্নীতি বেড়েছে, যা দেশের সামগ্রিক অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করেছে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্য দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে আনা অপরিহার্য। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, জনগণের সমর্থন পেলে সরকার গঠন করে যোগ্যতার ভিত্তিতে কর্মসংস্থান ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, বগুড়ার ন্যায্য অধিকার অবশ্যই নিশ্চিত করা হবে, তবে তা যেন অন্য কোনো জেলার অধিকার ক্ষুণ্ন করে না—সেদিকেও সমানভাবে নজর রাখতে হবে। সমগ্র দেশের উন্নয়নই হবে আগামী দিনের মূল লক্ষ্য, যেখানে সব অঞ্চলের মানুষ সমান সুযোগ পাবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।