রাজনীতি
বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় সরকারের অংশ হবে না জামায়াত: মির্জা ফখরুল
বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে দলের ভবিষ্যৎ কৌশল, জোট রাজনীতি, রাষ্ট্র সংস্কার ও প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
ভারতের ইংরেজি ম্যাগাজিন দ্য উইক-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে নির্বাচনের প্রক্রিয়া, রাষ্ট্র সংস্কার ও আঞ্চলিক কূটনীতি-সবকিছুতেই দলের দৃষ্টিভঙ্গির রূপরেখা তুলে ধরেছেন তিনি।
ফখরুল বলেন, বাংলাদেশের মানুষ অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায়। প্রায় ১৫ বছর ধরে ভোটাধিকার প্রয়োগে মানুষ সীমিত ছিল। ১৮–৩০ বছরের প্রজন্মের অনেকেই কখনো প্রকৃত ভোটের অভিজ্ঞতা পায়নি। তাই ভোটার উপস্থিতি ভালো হবে এবং বড় ধরনের বাধা নির্বাচনকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে না। তিনি মন্তব্য করেন, নির্বাচন কমিশন দায়িত্বশীলভাবে কাজ করছে এবং সরকারও আন্তরিক।
গত ১৫ বছরে স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সময় বিএনপি বাম ও ডান উভয় ধারার প্রায় ২০–২৪টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট গড়ে তুলেছিল। ফখরুল জানান, সরকার গঠনের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ঐকমত্যভিত্তিক দলগুলো অংশ নেবে। যারা আন্দোলনের অংশ ছিল না, তারা সরকারের অংশ হবে না।
ফখরুল স্পষ্টভাবে বলেন, “জামায়াতে ইসলামী বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় সরকারের অংশ হবে না। তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো চুক্তি নেই।”
ছাত্রদের দ্বারা গঠিত ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)-র সঙ্গে জোট না হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, এনসিপি অত্যধিক আসনের দাবি করেছিল, যা বাস্তবায়ন সম্ভব ছিল না। তিনি মনে করেন, এই আসনগুলোতে বিএনপির প্রার্থীরা জয়ী হতে সক্ষম হবেন।
ফখরুল মন্তব্য করেন, আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলবে না। তবে তরুণদের মধ্যে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন সত্যিকারের উদ্দীপনা তৈরি করেছে। তিনি নারী ক্ষমতায়ন, কৃষকের কল্যাণ ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ দুই টার্মে সীমাবদ্ধ করা, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এছাড়াও, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাত সংস্কারের ওপর জোর দেওয়া হবে।
ফখরুল বলেন, পানি বণ্টন, সীমান্ত হত্যাকাণ্ড ও বাণিজ্য ইস্যু দ্রুত সমাধান করা দরকার। সাম্প্রতিক ক্রিকেট–সংক্রান্ত ঘটনা উভয় পক্ষের জন্য অপ্রয়োজনীয় ও দুঃখজনক ছিল। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক জানানো ইতিবাচক ইঙ্গিত। তিনি মন্তব্য করেন, শেখ হাসিনার ভূমিকা ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ককে কিছুটা প্রভাবিত করবে, তবে এটি বাধা নয়।
ফখরুল বলেন, পাকিস্তানকে অবশ্যই ১৯৭১ সালের গণহত্যার জন্য ক্ষমা চাইতে হবে। তবে আঞ্চলিক উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় অপরিহার্য।