রাজনীতি
সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নের আলোচনায় বিএনপির শীর্ষ মহিলা নেত্রীরা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা মঙ্গলবার শপথ নেন এবং একইদিন বিকেলে ৪৯ সদস্য বিশিষ্ট নতুন মন্ত্রিপরিষদও শপথ গ্রহণ করে। মার্চের প্রথম সপ্তাহে ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন বসার সম্ভাবনা রয়েছে।
অধিবেশন শুরু হলে সংসদ সচিবালয় সংরক্ষিত নারী আসনের ভোটার তালিকা ইসিতে পাঠাবে এবং এরপর তফসিল ঘোষণা করা হবে। বর্তমানে মোট ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে ৩৬টি আসন পাবে বিএনপি, জামাত ১২টি, এনসিপি ১টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ১টি আসন পাবেন। নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির আসন সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সংরক্ষিত নারী আসনে কারা মনোনয়ন পাবেন তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে। দলের হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে নেত্রীরা নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও গুলশানের চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে উপস্থিতি বাড়াচ্ছেন। দলীয় সূত্র বলছে, দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয়, আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী, তৃণমূল সংগঠন শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখা নেত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। এছাড়া পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ ও সাবেক ছাত্রনেত্রীদেরও তালিকায় রাখা হতে পারে।
প্রাথমিকভাবে একটি বড় তালিকা প্রস্তুত করে পরে সংক্ষিপ্ত তালিকা করা হবে। চূড়ান্ত অনুমোদন তারেক রহমান-এর অনুমোদন ছাড়া হবে না।
সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকা নেত্রীরা: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, কেন্দ্রীয় কমিটির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আকতার জাহান শিরিন, হাসনা জসিম উদ্দিন মওদুদ, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বিদ্যুৎ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সহধর্মিণী রুমানা মাহমুদ, বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শাম্মী আকতার, মহিলা দলের সহসভাপতি নাজমুন নাহার বেবী, সাবেক এমপি আসিফা আশরাফী পাপিয়া, সাবেক এমপি নিলুফার চৌধুরী মনি, রাশেদা বেগম হীরা, রেহেনা আকতার রানু।
আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী, মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, হারিছ চৌধুরীর মেয়ে সামিরা তানজিনা চৌধুরী, সাবেক এমপি মকবুল হোসেনের মেয়ে সৈয়দা আদিবা হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের মেয়ে অপর্না রায়, সহকারী এটর্নি জেনারেল মিনা বেগম মিনি, ফাহসিনা হক লিরা, অধ্যাপিকা রোকেয়া চৌধুরী বেবী, সাবেক ছাত্রদল নেত্রী এবং দিনাজপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাসনাহেনা হিরা, ঢাকা মহানগর উত্তর মহিলা দলের আহবায়ক অ্যাডভোকেট রুনা লায়লা (রুনা), দক্ষিণের আহবায়ক রুমা আক্তার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা, শাহানা আকতার সানু, নিয়াজ হালিমা আর্লি, রাবেয়া আলম, রোকেয়া সুলতানা তামান্না, আমেনা বেগম, ঝালকাঠি জেলা বিএনপি নেত্রী জেবা আমিন খান, চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোছা. দেওয়ান মাহামুদ লিটা।
সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পরিচিত মুখরাও তালিকায় আলোচনায় আছেন- কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন, রিজিয়া পারভিন, কনক চাঁপা, সাবেক কাউন্সিলর ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি, স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রয়াত সভাপতি শফিউল বারী বাবুর স্ত্রী বীথিকা বিনতে হোসাইন, মায়ের ডাকের সানজিদা ইসলাম তুলি, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক শাহিনুর নার্গিস, ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী শওকত আরা উর্মি, সেলিনা সুলতানা নিশিতা, নাদিয়া পাঠান পাপন, শাহিনুর সাগর, সাবেক এমপি ইয়াসমিন আরা হক, চেমন আরা বেগম, জাহান পান্না, বিলকিস ইসলাম, ফরিদা ইয়াসমিন, বিথীকা বিনতে হুসাইন, ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা।
সূত্রের দাবি, দলীয় সুপারিশ ছাড়াও মাঠপর্যায়ের গ্রহণযোগ্যতা এবং অতীত রাজনৈতিক ভূমিকার ওপরই মূলভাবে নির্ভর করবে মনোনয়ন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সংসদ সচিবালয় তালিকা পাঠালে তফসিল ঘোষণার পর ঈদের আগে নির্বাচন সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হবে।