রাজনীতি

‌'মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মন্ত্রিপরিষদে যোগ দেব না' শপথ বিতর্কে মুখ খুললেন গয়েশ্বর চন্দ্র


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৪১ এএম

‌'মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মন্ত্রিপরিষদে যোগ দেব না' শপথ বিতর্কে মুখ খুললেন গয়েশ্বর চন্দ্র
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। ছবি: সংগৃহীত

ভাইরাল হওয়া শপথ অনুষ্ঠানের বিতর্ক নিয়ে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৩ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি মন্ত্রিপরিষদে যোগ দেবেন না। মন্ত্রী হবেন না-এটি জেনেই তিনি শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কারও চরিত্রহনন বা সম্মানে আঘাত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। সভায় স্থানীয় উন্নয়ন ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, তিনি আগে থেকেই জানতেন যে তিনি মন্ত্রী হবেন না। তবুও দায়িত্ববোধ থেকেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি আপনাদের পরিষ্কার করে বলে যাচ্ছি—মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমি মন্ত্রিপরিষদে যোগ দেব না। আমি একজন সংসদ সদস্য, জনগণের প্রতিনিধি। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মানুষের পক্ষে লড়াই করব, নিয়মের কথা বলব এবং নিয়ম প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে যাব।”

তিনি আরও বলেন, শপথ অনুষ্ঠানে একজন সিনিয়র নেতা হিসেবে তাকে সামনের সারিতে বসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু পরিস্থিতির অজ্ঞতার কারণে এক কর্মকর্তা মন্ত্রী ছাড়া অন্য সবাইকে আসন ছেড়ে দিতে বলেন। এমনকি অনুষ্ঠানস্থল না ছাড়লে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) ডেকে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতেই তিনি অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হন।

ফেরার সময় কিছুটা আবেগপ্রবণ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ পেয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেটিই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। অথচ বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। তিনি দাবি করেন, মন্ত্রিসভায় ডাক পেলে একজন সিনিয়র নেতা হিসেবে তা আগেই তার জানার কথা ছিল।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এ সময় বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সত্য তুলে ধরা সাংবাদিকতার মূল দায়িত্ব, সেখানে ভুল ব্যাখ্যা বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উপস্থাপন সমাজে বিভ্রান্তি তৈরি করে।

মতবিনিময় সভায় তিনি ঢাকা-৩ আসনের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরতে স্থানীয় কর্মকর্তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান ও সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান। উপস্থিত বক্তারা এলাকায় মাদক ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট, সড়ক সংস্কার, যানজট, ময়লা-আবর্জনা ব্যবস্থাপনা এবং দখল বাণিজ্যসহ নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন।

এ সময় গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, “১৭ বছরের জঞ্জাল একদিনে দূর করা সম্ভব নয়। তবে ধাপে ধাপে সব সমস্যার সমাধান করা হবে। এজন্য সবার সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন মো. উমর ফারুক এবং সঞ্চালনা করেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আব্দুস সাত্তার বেগ। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী, এসিল্যান্ড জান্নাতুল মাওয়া ও আফতাব আহমেদ, কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম, দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম সাইফুল ইসলামসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানরা।

এই সভার মধ্য দিয়ে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আবারও তার অবস্থান পরিষ্কার করেন—তিনি ক্ষমতার পদ নয়, জনগণের অধিকার ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান করাকেই নিজের রাজনৈতিক দায়িত্ব হিসেবে দেখেন।