রাজনীতি
আমরা কখনোই আওয়ামী লীগের সঙ্গে ছিলাম না: জি এম কাদের
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের (জি এম কাদের) বলেছেন, “আমরা কোনো সময়ই আওয়ামী লীগের সঙ্গে ছিলাম না।”
বুধবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগরে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জি এম কাদের বলেন, “জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানে দেশের প্রায় ৯৯ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অংশ নিয়েছে। আমি নিজেও সংসদে জুলাইয়ের শুরুতে শিক্ষার্থীদের কোটা আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে বক্তব্য দিয়েছিলাম। আমাদের দলের দুইজন কর্মী এই আন্দোলনে অংশ নিয়ে শহীদ হয়েছেন।”
সংবাদ সম্মেলন শেষে এক সাংবাদিকের প্রশ্ন ছিল— “আপনি বলছেন, জুলাই আন্দোলনের পক্ষে ছিলেন। তবে গত দেড় দশক ধরে আওয়ামী লীগকে সমর্থন ও তাদের সঙ্গে থাকা কি রাজনৈতিক ভুল ছিল?” এর জবাবে জি এম কাদের দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “আমরা কোনো সময়ই আওয়ামী লীগের সঙ্গে ছিলাম না। শুধু ২০০৮ সালে মহাজোটের অংশ হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলাম।”
২০১৪ সালের নির্বাচন প্রসঙ্গ উঠলে জি এম কাদের বলেন, “সে নির্বাচনে আমি আওয়ামী লীগের অধীনে যাইনি। আমার পাশে যারা ছিলেন তারাও যাননি। ২০২৪ সালের নির্বাচনে আমাদের জোর করে নেওয়া হয়েছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সময়ে জাতীয় পার্টিকে বাদ দিয়ে একটি ‘প্রহসনমূলক অংশগ্রহণের’ চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা চলছে। তাঁর ভাষায়, “আমাদের বাদ দিয়ে প্রতীকে নির্বাচন করানোর চেষ্টা হচ্ছে, যাতে দেখানো যায় জাতীয় পার্টি অংশ নিচ্ছে; অথচ বাস্তবে তা নয়। এমন কিছু করা হলে তা দেশের রাজনীতির জন্য সুখকর হবে না।”
নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জি এম কাদের বলেন, “আমি বর্তমান যে নির্বাচন ব্যবস্থা আছে সেটিকেই সমর্থন করি। অনেকে প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) পদ্ধতির কথা বলছেন, তবে আমি সেটির পক্ষে নই।”
তিনি আরও বলেন, “জাতীয় পার্টি সবসময় স্বাধীন রাজনৈতিক অবস্থান বজায় রেখেছে। আমরা কখনো কারও ছত্রছায়ায় রাজনীতি করিনি। জনগণের স্বার্থ ও দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত নেবে জাতীয় পার্টি।”
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, আলমগীর সিকদার লোটন, এমরান হোসেন মিয়া, ইঞ্জিনিয়ার মাইনুল রাব্বি চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলমসহ দলটির অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।