রাজনীতি

জামায়াতের নারী কর্মী গ্রেপ্তার, আমিরের ক্ষোভ প্রকাশ


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৪৩ এএম

জামায়াতের নারী কর্মী গ্রেপ্তার, আমিরের ক্ষোভ প্রকাশ
ছবি: সংগৃহীত

জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মী বিবি সাওদা গ্রেপ্তারের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই ঘটনার কঠোর সমালোচনা করেন। তার ভাষায়, সাওদা সুমির সঙ্গে করা আচরণ “নিকৃষ্ট” এবং এটি নব্য ফ্যাসিবাদের বহিঃপ্রকাশ।

তিনি আরও বলেন, ইতিহাসে ফ্যাসিবাদী শক্তিগুলো নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে জনগণের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করে, তবে শেষ পর্যন্ত তাদেরই পতন ঘটে। অতীত থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

Screenshot_1.jpg

এদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদেক কায়েম-ও এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। সোমবার মধ্যরাতে সামাজিকমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ভোলার এই গ্রেপ্তার “ফ্যাসিবাদী নিপীড়নের পুনরাবৃত্তি”।

তিনি অভিযোগ করেন, তিন বছরের এক বাকপ্রতিবন্ধী শিশুর মাকে মধ্যরাতে বাসা থেকে তুলে নেওয়া অমানবিক এবং ভিন্নমত দমনের ইঙ্গিত বহন করে। একই সঙ্গে তিনি অবিলম্বে সাওদার মুক্তি এবং রাজনৈতিক হয়রানি বন্ধের দাবি জানান।

উল্লেখ্য, গত রোববার (৫ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার হন বিবি সাওদা। তিনি ভোলা পৌরসভার জামায়াতে ইসলামীর একজন নারী কর্মী।

গ্রেপ্তারের আগে বিবি সাওদা তার ফেসবুক আইডিতে 'Sawoda Sumi' নামে পোস্টে লিখেছিলেন, ‘আমরা তো চাইলে ইরান থেকে তেল আনতে পারি তারা তো অনুমতি দিছে। তাহলে দুই তিন গুণ বেশি টাকা দিয়ে কেন ভারত থেকে তেল আনা লাগবে?’ এছাড়া আরও অন্যান্য পোস্টে তিনি জ্বালানি তেল সংকট নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেছেন।

Screenshot_4.jpg
Screenshot_3.jpg

মামলার এজাহারে পুলিশ উল্লেখ করে, বিবি সাওদা তার ফেসবুক আইডিতে রাষ্ট্র এবং সরকারি বিরোধী বিভিন্ন পোস্ট করায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তার মোবাইলটি জব্দ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে ফেসবুক পোস্টের সত্যতা স্বীকার করে তিনি জানান, ফেসবুকের ভিউ বৃদ্ধির জন্য তিনি সমসাময়িক এবং সরকার রাজনীতি, রাষ্ট্র, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সম্পর্কে বিভিন্ন পোস্ট করেছেন।

তিনি সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ এ শাস্তিযোগ্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত। তার মোবাইল ফোনের ফেসবুক পোস্ট পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ তাৎক্ষণিক সম্ভব না হওয়ায় তাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় আদালতে সোপর্দ করা হয়। পরবর্তী কার্যক্রম অনুসরণ পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ পর্যন্ত তাকে জেল হাজতে আটক রাখার জন্য আদালতে আবেদন করে পুলিশ।