রাজনীতি

খুচরা পয়সার অভাবে ৮০ পয়সা বেশিতে সিগারেট কিনতে হচ্ছে: আমির হামজা    


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬, ১১:৪১ এএম

খুচরা পয়সার অভাবে ৮০ পয়সা বেশিতে সিগারেট কিনতে হচ্ছে: আমির হামজা    
ছবিঃ সংগৃহীত

খুচরা পয়সার সংকটের কারণে নিম্নস্তরের সিগারেট নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হলেও অতিরিক্ত অর্থ সরকারের রাজস্ব হিসেবে জমা হচ্ছে না বলে দাবি করেছেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের আমির হামজা। তার মতে, এ কারণে সরকার বছরে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।

গতকাল সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

আমির হামজা বলেন, বাজেট তখনই অর্থবহ হবে, যখন তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। সরকারের ঘোষিত ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, বাজেটের আকার ৬ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হলে সরকারের ঋণনির্ভরতা কম হতো।

এ সময় তিনি তামাকপণ্যের মূল্য নির্ধারণ নিয়ে অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘নিম্নমানের একটি সিগারেটের সরকারি দাম ৬ টাকা ২০ পয়সা। কিন্তু খুচরা পয়সার অভাবে ক্রেতাদের ৭ টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে। অতিরিক্ত ৮০ পয়সা সরকার পায় না। হিসাব করে দেখেছি, এই অর্থ রাজস্ব হিসেবে আদায় করা গেলে সরকারের আয় প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা বাড়তে পারে।’

তিনি বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার আহ্বান জানান।

আমির হামজার বক্তব্যের সঙ্গে মিল রেখে সম্প্রতি বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান Power and Participation Research Centre একই ধরনের তথ্য তুলে ধরেছে।

গত ২২ জুন জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত ‘তামাক খাতের কর ও নীতি সংস্কার’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেটের সরকারি মূল্য এবং বাজারদরের মধ্যে অসামঞ্জস্যের কারণে সরকার প্রায় ৪ হাজার ৬২ কোটি টাকার রাজস্ব হারাতে পারে।

পিপিআরসির গবেষণা অনুযায়ী, নিম্নস্তরের ১০ শলাকার সিগারেটের সরকারি মূল্য ৬২ টাকা, অর্থাৎ প্রতি শলাকার দাম ৬ টাকা ২০ পয়সা। কিন্তু বাস্তবে দেশের বিভিন্ন স্থানে একই সিগারেট ৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মধ্যম স্তরের সিগারেটের ক্ষেত্রেও একই ধরনের মূল্য ব্যবধান রয়েছে।

গবেষণা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশে নিম্নস্তরের প্রায় ৬৮ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন শলাকা সিগারেট বিক্রি হয়েছে। প্রতি শলাকায় ৮০ পয়সা অতিরিক্ত মূল্য হিসেবে ধরলে এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৫ হাজার ৫১২ কোটি টাকা।

পিপিআরসির মতে, বাজারমূল্যের সঙ্গে কর ও মূল্য কাঠামোর সমন্বয় না থাকায় এই বিপুল সম্ভাব্য রাজস্ব সরকারের আয় ব্যবস্থার বাইরে থেকে যাচ্ছে।