রাজনীতি

গোপালগঞ্জে এনসিপি নেতাদের ওপর হামলায় ১২ দলীয় জোটের তীব্র নিন্দা


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৫, ১০:২৩ পিএম

গোপালগঞ্জে এনসিপি নেতাদের ওপর হামলায় ১২ দলীয় জোটের তীব্র নিন্দা
ছবি: সংগৃহীত

গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আয়োজিত পূর্বঘোষিত ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচিতে হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ১২ দলীয় রাজনৈতিক জোট।

বুধবার (১৬ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই হামলাকে ‘ফ্যাসিস্ট সন্ত্রাসী তৎপরতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তারা বলেন, এ ধরনের বর্বর ঘটনা দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, এনসিপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীদের ওপর পতিত আওয়ামী স্বৈরাচারের অনুগত ফ্যাসিস্ট সন্ত্রাসীদের ন্যাক্কারজনক ও ভয়াবহ হামলা ছিল পূর্বপরিকল্পিত। এতে ককটেল বিস্ফোরণ, গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, পুলিশ সদস্যদের আহত করা ও ইউএনওর গাড়িতে হামলার মতো দুঃসাহসিক ঘটনাগুলো ঘটেছে। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরমভাবে অবনতির দিকে ধাবিত হচ্ছে, এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও তা প্রতিরোধে ব্যর্থ হচ্ছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর ছাত্রলীগের মতো নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ও তাদের সন্ত্রাসীরা পুনরায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি এবং নৈরাজ্যের মাধ্যমে রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের অপচেষ্টা করছে। এতে করে তারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও রাষ্ট্রকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতে চাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে জোটের নেতৃবৃন্দ দৃঢ়ভাবে বলেন, দুষ্কৃতিকারীদের কঠোরভাবে দমন না করলে গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটাধিকার হুমকির মুখে পড়বে এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষাও দুরূহ হয়ে উঠবে।

জোটের নেতারা দেশবাসীর উদ্দেশ্যে আহ্বান জানিয়ে বলেন, ফ্যাসিবাদী শক্তির পুনরুত্থান ঠেকাতে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জনগণের জানমাল রক্ষায় প্রকৃত দেশপ্রেমিক হিসেবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে নেতারা বলেন, ৫ আগস্টের পরবর্তী সময়ে জাতীয় ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় করতে হবে। পরস্পরের বিরুদ্ধে কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি ও বিভাজন সৃষ্টি আমাদের সংগ্রামকে ব্যর্থ করবে এবং বিরোধী রাজনীতিকে দুর্বল করে তুলবে।

জোট নেতারা গোপালগঞ্জের ঘটনায় জড়িত হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি তারা আহত পুলিশ সদস্যদের আশু সুস্থতা কামনা করেন।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন ১২ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা—জোট প্রধান ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, মুখপাত্র ও বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম, সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ড. গোলাম মহিউদ্দিন ইকরাম, জাগপার সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান, ন্যাশনাল লেবার পার্টির চেয়ারম্যান লায়ন ফারুক রহমান, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান শামসুদ্দিন পারভেজ, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল রকিব, ইসলামিক পার্টির মহাসচিব আবুল কাশেম, প্রগতিশীল জাতীয়তাবাদী পার্টির (পিএনপি) চেয়ারম্যান ফিরোজ মুহাম্মদ লিটন এবং নয়া গণতান্ত্রিক পার্টির সভাপতি এম এ মান্নান।