রাজনীতি

না ফেরার দেশে চলে গেলেন ওসমান হাদি


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:৫৭ পিএম

না ফেরার দেশে চলে গেলেন ওসমান হাদি
শরীফ ওসমান বিন হাদি। ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা এবং ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি আর নেই। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত পৌনে ১০টার দিকে সংগঠনটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তার মৃত্যুর খবর জানানো হয় (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

ফেসবুক পোস্টে ইনকিলাব মঞ্চ দাবি করে, ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ওসমান হাদিকে মহান আল্লাহ শহীদের মর্যাদা দিয়েছেন। ওসমান হাদি ঢাকা-৮ আসন থেকে সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও আলোচনায় ছিলেন।

এর আগে গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশায় থাকা অবস্থায় তার ওপর গুলি চালানো হয়। মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন তিনি। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে জানা গেছে, হামলার আগে কয়েক মাস ধরে ওসমান হাদির চলাচল, বাসা ও অফিসের রুট এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর নজরদারি চালানো হচ্ছিল। হামলাটি পরিকল্পিত ছিল বলে ধারণা করছে তদন্তকারী সংস্থাগুলো।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গুলির ঘটনার পর সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান ওরফে রাহুল আগারগাঁওয়ে তার বোনের বাসায় আশ্রয় নেন। পরে শুটার ফয়সাল এবং মোটরসাইকেল চালক আলমগীর শেখ আত্মগোপনে চলে যান। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, তারা বর্তমানে প্রতিবেশী একটি দেশে অবস্থান করছেন।

র‌্যাব ও ডিবির যৌথ অভিযানে হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) আগারগাঁওয়ের কর্নেল গলির একটি বাসার নিচ থেকে দুটি ম্যাগাজিন ও ১১ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এর আগে নরসিংদী থেকে পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৪১ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করে র‌্যাব।

এ ঘটনায় পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। মামলাটির তদন্ত করছে ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।

ডিবির যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে। হামলার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের ভূমিকা ও নেপথ্যের পরিকল্পনাকারীদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।

এ পর্যন্ত র‌্যাব ও পুলিশ যৌথভাবে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।