ধর্ম

বদনজর থেকে বাঁচতে ইসলামে যে দোয়া ও আমলের কথা বলা হয়েছে


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:৫৪ পিএম

বদনজর থেকে বাঁচতে ইসলামে যে দোয়া ও আমলের কথা বলা হয়েছে
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামি আকিদায় 'বদনজর' কেবল কুসংস্কার নয়, বরং এটি একটি ধ্রুব সত্য। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, "বদনজর মানুষকে কবর পর্যন্ত এবং উটকে হাঁড়ি (মৃত্যু) পর্যন্ত পৌঁছে দিতে পারে।" 

মানুষের উপর বিভিন্ন কারণে বদনজর হয়ে থাকে। বদনজর শুধু মানুষের পক্ষ থেকে হয় এমনটি নয়, বরং বদজিন থেকেও বদনজর হয়ে থাকে। মানুষের কুদৃষ্টিই মূলত বদনজর। এতে বেশি আক্রান্ত হয় শিশুরা। তবে বড়রাও এ থেকে মুক্ত নয়। তাই সবার উচিত বদ নজর থেকে বাঁচতে কুরআনি আমল ও দোয়া পড়া। 

বদনজরে আক্রান্ত ব্যক্তিকে ঝাঁড়-ফুক দেয়া। বদনজরে আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য ঝাঁড় ফুকের সময় এ দোয়া পড়া-

তিন কুলের ব্যবহার: প্রতিদিন ফজর ও মাগরিবের পর এবং রাতে ঘুমানোর আগে ৩ বার করে সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস পাঠ করা। এই তিনটি সূরাকে যেকোনো অনিষ্টের বিরুদ্ধে 'বর্ম' বলা হয়।

আয়াতুল কুরসি: প্রতিদিন অন্তত একবার এবং প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করা বদনজর ও শয়তানের হাত থেকে বাঁচার অন্যতম মাধ্যম।

কোনো সুন্দর জিনিস বা সাফল্য দেখলে ইসলামে 'মাশাআল্লাহ' বা 'বারাকাল্লাহ' (আল্লাহ বরকত দিন) বলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এটি বললে ওই জিনিসের ওপর নিজের বা অন্যের নজর লাগার ভয় থাকে না। 

দৈনন্দিন জীবনে নিজেকে এবং পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে এই আমলগুলো করা যায়:

بِسْمِ اللهِ أرْقِيْكَ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُؤْذِيْكَ وَمِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أوْ عَيْنٍ حاَسِدٍ اللهُ يَشْفِيْكَ بِسْمِ اللهِ أرْقِيْكَ

উচ্চারণ : বিসমিল্লাহি আরক্বিকা মিং কুল্লি শাইয়িন ইয়ুজিকা ওয়া মিন সাররি কুল্লি নাফসিন আও আইনিন হাসাদিল্লাহু ইয়াশফিকা বিসমিল্লাহি আরক্বিকা।

অর্থ : আল্লাহর নামে কষ্ট দানকারীর সব অনিষ্টতা থেকে তোমাকে ঝাঁড়-ফুক করছি। হিংসুক ব্যক্তির কুদৃষ্টির অনিষ্টতা থেকে আল্লাহর নামে তোমাকে ঝাঁড়-ফুক করছি। আল্লাহ তোমাকের আরোগ্য দান করতে তারই নামে ঝাঁড়-ফুক করছি।’ (বুখারি ও মুসলিম)

أعُوذُ بِكَلِماَتِ اللهِ التاَّمَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطاَنٍ وَهاَمَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لاَمَّةٍ

উচ্চারণ : আউজু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন কুল্লি শায়ত্বানিন ওয়া হাম্মাতিন ওয়া মিন কুল্লি আইনিন লিআম্মাতিন।’

অর্থ : ‘আল্লাহর পরিপূর্ণ কালামসমূহের মাধ্যমে শয়তানের সব আক্রমণ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি। বিষধর প্রাণীর ও বদনজরকারীর অনিষ্টতা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি।’ (বুখারি)

بِسْمِ اللهِ يُبْرِيْكَ ومِنْ كُلِّ داَءٍ يَشْفِيْكَ، ومِنْ شَرِّ حاِسِدٍ إذاَ حَسَدَ، وَمِنْ شَرِّ كُلِّ ذِيْ عَيْنٍ

উচ্চারণ : ‘বিসমিল্লাহি ইউবরিকা ওয়া মিন কুল্লি দাঈন ইয়াশফিকা, ওয়া মিন শাররি হাসাদিন ইজা হাসাদা, ওয়া মিন শাররি কুল্লি জি আইনিন।’

অর্থ : ‘আল্লাহর নামে শুরু করছি, তিনি তোমাকে মুক্ত করুন, প্রত্যেক অসুখ থেকে আরোগ্য দান করুন, প্রত্যেক হিংসুকের হিংসা থেকে এবং প্রত্যেক বদনযরের অনিষ্ট থেকে (মুক্ত করুন)।’ (মুসলিম)

যদি কারোর নজর লেগে যায়, তবে আক্রান্ত ব্যক্তিকে সুন্নাহর আলোকে 'ঝাড়ফুঁক' বা 'রুকইয়াহ' করা যায়। এছাড়াও, যার নজর লেগেছে তার ওজুর পানি দিয়ে আক্রান্ত ব্যক্তিকে গোসল করানো একটি কার্যকর সমাধান, যা সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।