সারাদেশ

উদ্বোধনের দুই বছরের মাথায় অকার্যকর বান্দরবান টানেল ওয়ে


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১১:২৯ এএম

উদ্বোধনের দুই বছরের মাথায় অকার্যকর বান্দরবান টানেল ওয়ে
ছবি: সংগৃহীত

পরিকল্পনার অভাব, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না থাকা এবং যথাযথ তদারকির ঘাটতির কারণে বান্দরবানের পুরনো বাসস্ট্যান্ড ও নতুন আধুনিক বাস টার্মিনালের সংযোগ টানেল ওয়েটি উদ্বোধনের মাত্র দুই বছরের মধ্যেই প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

টানেলের ভেতরে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা না থাকায় দিনের বেলাতেও যানবাহনকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এ ছাড়া টানেলের ভেতরে বাস ও ট্রাকের অবৈধ পার্কিং, ছাদের ফাঁক দিয়ে পানি পড়ে কাদার সৃষ্টি হওয়া এবং কর্দমাক্ত রাস্তায় চলাচলের অনুপযোগী পরিস্থিতি স্থানীয়দের ভোগান্তি বাড়িয়েছে।

পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, আরসিসি ঢালাইয়ের জয়েন্ট দিয়ে পানি পড়ে প্রায় ৫০০ ফুট দীর্ঘ টানেল ওয়েটি নিয়মিত কর্দমাক্ত হয়ে থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে পানি নামানোর জন্য পিভিসি পাইপ বসানো হলেও সমস্যা নিরসন হয়নি।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড বান্দরবান ইউনিটের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বিন ইয়াসির আরাফাত জানান, “এটি প্রকৃত অর্থে টানেল নয়, বরং একটি সংযোগ সড়ক। ছাদের জয়েন্ট দিয়ে পানি পড়ায় পাইপ বসানো হয়েছে। বৃষ্টির সময় পাহাড় থেকে মাটি ভেসে এলে তা দ্রুত অপসারণও করা হয়।” তিনি আরও জানান, সৌরচালিত লাইট চুরি হয়ে যাওয়ায় কিছুদিন টানেলটি অন্ধকারে ছিল। পরে নতুন লাইট বসানো হলেও বারবার চুরি হওয়ায় আলোকসজ্জার সমস্যা থেকেই যাচ্ছে।

উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮–২০২০ মেয়াদে ৫ কোটি টাকা এবং ২০২০–২০২৩ মেয়াদে আরও ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে টানেল ওয়েটি নির্মাণ করা হয়। ২০২৩ সালের ২৭ অক্টোবর তৎকালীন মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএম ট্রেডার্স, যার নেতৃত্বে ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা রাজু বড়ুয়া।

সূত্র জানায়, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে প্রকৌশলীরা যথাযথভাবে কাজ তদারকি করতে পারেননি। এর ফলে ছাদের সাথে দেয়ালের সংযোগস্থলে ত্রুটি থেকে পানি ঢোকার সুযোগ তৈরি হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. ফোরকান বলেন, “দিনের বেলাতেও হেডলাইট জ্বালিয়ে গাড়ি চালাতে হয়। কর্দমাক্ত রাস্তায় মোটরসাইকেল চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ।” আরেক বাসিন্দা কামাল উদ্দিন জানান, “বৃষ্টির সময় পানি জমে কর্দমাক্ত হওয়ায় সাধারণ মানুষ প্রচণ্ড ভোগান্তিতে পড়ে।”

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, টানেল ওয়েটি শিগগিরই বান্দরবান পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হবে। পৌরসভার সম্মতি মিললেই তা কার্যক্রম শুরু হবে।

এদিকে স্থানীয়রা দ্রুত সংস্কার করে টানেল ওয়েটিকে চলাচলের উপযোগী করার জোর দাবি জানিয়েছেন।