সারাদেশ

'আমার ৩ বোনের পাঁচ ছেলে-মেয়ে মারা গেছে, ওরা ৯ জন বেড়াতে এসেছিল'


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৯ পিএম

'আমার ৩ বোনের পাঁচ ছেলে-মেয়ে মারা গেছে, ওরা ৯ জন বেড়াতে এসেছিল'
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের উখিয়ায় ইনানীর পাটুয়ারটেক সৈকতে কাঠের তৈরি টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের ছয়জন নিহত হয়েছেন। স্বজনদের হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন ঢাকার বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম। খবর পেয়ে তিনি উড়োজাহাজে কক্সবাজারে আসেন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ভাগনে ভাগনি ছয়জন মারা গেছে। আমার তিন বোন। আমি একমাত্র ভাই। আমার তিন বোনের পাঁচ ছেলেমেয়ে মারা গেছে। বড় ভাগনিরও বাচ্চা মারা গেছে। ওরা ৯ জন বেড়াতে এসেছিল। তিনজন বেঁচে আছে।’

শনিবার ১৭ অক্টোবর বেলা দুইটার দিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান তিনি। আমিনুল ইসলাম বলেন, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাঁদের ঢাকায় ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। গত বৃহস্পতিবার তাঁরা বেড়াতে কক্সবাজার এসেছিলেন। সকালে আগুন লাগার সময় তাঁদের দুজন বাইরে ছিলেন। পরে তাঁরাই তাঁকে আগুন লাগার খবর দেন।

উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক সৈকতে অবস্থিত টুপটুপ রিসোর্টে শনিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের কক্সবাজারের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মোরশেদ হোসেন বেলা সোয়া দুইটার দিকে ১০ জনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আরও মরদেহ থাকতে পারে। উদ্ধার অভিযান চলছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেরিন ড্রাইভ সড়কসংলগ্ন রিসোর্টটিতে আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেন।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের চট্টগ্রাম বিভাগের উপপরিচালক মো. তৌফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, শনিবার সকাল ৭টা ২৩ মিনিটে কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসে আগুনের খবর দেওয়া হয়। সকাল আটটার দিকে ফায়ার সার্ভিসের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। রিসোর্টের তৃতীয় তলার দুটি শৌচাগার থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মো. তৌফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, সমুদ্রের তীব্র বাতাসের কারণে কাঠের তৈরি রিসোর্টটিতে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ ধরনের স্থাপনায় বহনযোগ্য অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, অগ্নিসংকেত, পানির পাইপ এবং অগ্নিনিরাপত্তা পরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন। কিন্তু রিসোর্টটিতে এসব ব্যবস্থার কিছুই ছিল না। প্রতিষ্ঠানটির অগ্নিনিরাপত্তা সনদও ছিল না। মাত্র সাত থেকে আট মাস আগে রিসোর্টটি নির্মাণ করা হয়েছিল। জায়গাটির মালিকানা নিয়েও বিরোধ ছিল বলে জানান তিনি।

নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁরা হলেন ঢাকার ইসরাত জাহান মালিহা, বয়স ৩০ বছর, মিলিতা মেহেজাবিন আলভী, বয়স ২৩ বছর, লায়লা জাহান নাবিলা, বয়স ২৭ বছর, নাফিসতা মীম, বয়স ২৭ বছর, চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির, বয়স ৩৩ বছর এবং পাঁচ বছর বয়সী ফায়িজান আহম্মেদ। পরিচয় শনাক্ত হওয়া ছয়জনের মধ্যে পাঁচজন নারী ও একজন শিশু।

এ ঘটনায় দগ্ধ ছয়জন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আছেন মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন, বয়স ৩১ বছর এবং তাঁর স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান, বয়স ২৯ বছর।