সারাদেশ

সৌদি আরবে নজরুলের মৃত্যুদণ্ডের খবরে মারা গেলেন তার ফুফু


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫২ পিএম

সৌদি আরবে নজরুলের মৃত্যুদণ্ডের খবরে মারা গেলেন তার ফুফু
ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নজরুল ইসলাম নামে এক যুবকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর পাওয়ার পর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন তার ফুফু আবেদা বেগম, বয়স ৬৫ বছর। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তানকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন নজরুলের বাবা ও মা।

নজরুল ইসলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বিরামপুর গ্রামের আবদুল বাছির ও রেহেনা বেগম দম্পতির চার সন্তানের মধ্যে সবার বড়। পরিবারের অভাব দূর করতে ২০২২ সালে সাত লাখ টাকা ঋণ করে তাকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন তিনি।

পরিবারের সদস্যরা জানান, সৌদি আরবে যাওয়ার সাত থেকে আট মাস পর নজরুলের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরে কারাগার থেকে ফোন করে তিনি পরিবারকে জানান, তিনি বন্দি রয়েছেন। তবে কী কারণে তাকে আটক করা হয়েছে, তা জানাননি। প্রায় তিন বছর তিন মাস কারাগারে থাকার পর গত ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর জানতে পারে পরিবার। স্বজনদের দাবি, গণমাধ্যমের খবর থেকেই তারা বিষয়টি জানতে পেরেছেন।

নজরুলের মৃত্যুর খবর জানার পর পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের ভাষ্য, খবরটি শোনার পর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তার ফুফু আবেদা বেগম। একদিকে ছেলেকে হারানোর শোক, অন্যদিকে পরিবারের আরেক সদস্যের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন নজরুলের বাবা ও মা।

নজরুলের বাবা আবদুল বাছির বলেন, ‘আমার ছেলেও গেল, বোনও গেল। সব হারিয়ে আমি এখন নিঃস্ব। ছেলেকে বিদেশে পাঠাতে সাত লাখ টাকা ঋণ করেছিলাম। এখন কীভাবে এই ঋণ শোধ করব, তাও জানি না। সরকারের কাছে দাবি, আমার ছেলের মরদেহ যেন দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।’

তিনি আরও জানান, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে নজরুল আইনি সহায়তা পেয়েছিলেন কি না এবং বাংলাদেশ কনস্যুলেটের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ পেয়েছিলেন কি না, তা নিয়ে তাদের প্রশ্ন রয়েছে। কারাগারে থাকার সময় নজরুল তাকে জানিয়েছিলেন, কনস্যুলেটের কেউ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেননি।

এদিকে নজরুলের মৃত্যুর খবরে বিরামপুর গ্রামজুড়ে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে বাড়িতে ভিড় করছেন আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসী। স্থানীয়দের দাবি, বিদেশে আটক বাংলাদেশিদের আইনি সহায়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের আরও সক্রিয় ভূমিকা থাকা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ বলেন, নজরুলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। মরদেহ দেশে ফিরলে পরিবারকে সহায়তা করা হবে।

নজরুলের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তার আইনি সহায়তা এবং বাংলাদেশ কনস্যুলেটের ভূমিকা সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য চান পরিবারের সদস্যরা।