সারাদেশ

ঈমানদার মানুষকে দিয়ে আর ধর্মীয় যুদ্ধ লাগায়েন না: ফজলুর রহমান


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৮:১৪ পিএম

ঈমানদার মানুষকে দিয়ে আর ধর্মীয় যুদ্ধ লাগায়েন না: ফজলুর রহমান
ফজলুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

সম্প্রতি সব দলীয় পদ ও পদবি তিন মাসের জন্য স্থগিত হওয়া বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান ফের সরব হয়েছেন। ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত এক ধর্মীয় সমাবেশে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, “কবর থেকে লাশ তুলে পুড়িয়ে দেওয়া কোনো মুসলমানের কাজ হতে পারে না। যারা এমন করেছে, তারা ইসলামের শত্রু।”

শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আয়োজিত জশনে জুলুস শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সাবেক এই বিএনপি নেতা বলেন, “আমি ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের বলব এ ধরনের ঘৃণ্য কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। প্রয়োজনে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন।”

জুলুসটি অষ্টগ্রাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ঐতিহাসিক কুতুবশাহী মসজিদে গিয়ে দোয়া ও মিলাদের মাধ্যমে শেষ হয়। ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফজলুর রহমান।

দলীয় পদ স্থগিত হওয়ার পর এই প্রথমবার নিজ নির্বাচনী এলাকায় প্রকাশ্যে কোনো জনসমাবেশে অংশ নিলেন তিনি। উল্লেখ্য, তিনি কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম) আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী।

আলোচনার একপর্যায়ে তিনি আরও বলেন, “ইউনূস সাহেবের আমলে এসব অপকর্ম ঘটে চলেছে। সরকারকে সতর্ক করে বলতে চাই মানুষকে উসকে দিয়ে, ঈমানদার মানুষদের ব্যবহার করে দেশে আর ধর্মীয় গৃহযুদ্ধ লাগানোর চেষ্টা করবেন না। এমন পরিস্থিতি তৈরি করবেন না যাতে তৌহিদি জনতা রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়।”

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “এই দেশের ১২ আনা মুসলমান সুন্নি। সুন্নিরা শান্তিপ্রিয়, কিন্তু তাদের বিশ্বাস ও আকিদা নিয়ে কেউ ছিনিমিনি খেললে তারা কখনো চুপ থাকবে না। সুন্নিরা জামায়াতে ইসলামী নয় তারা ঈমান ও ইসলামের প্রতিনিধিত্ব করে।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন মুকুল, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শাহীন, উপজেলা আহলে সুন্নত জামাতের আহ্বায়ক মাওলানা জালাল উদ্দিন আশরাফী, সদস্যসচিব মাওলানা রেদওয়ানুল হক আশরাফীসহ স্থানীয় রাজনীতিক, আলেম ও সমাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।