সারাদেশ

হোটেল থেকে শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার, স্ত্রীর কাছে ফোনে ২০ হাজার টাকা দাবি


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫০ পিএম

হোটেল থেকে শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার, স্ত্রীর কাছে ফোনে ২০ হাজার টাকা দাবি
ছবি: সংগৃহীত

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষ থেকে আবুল বাশার তালুকদার নামে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর আগে তার মোবাইল ফোন থেকে স্ত্রীকে কল করে চিকিৎসার কথা বলে ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনেরা। টাকা না দিলে মরদেহ খুঁজে পাওয়া যাবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি তাদের। ঘটনার পর থেকে হোটেলটির মালিক ও ম্যানেজার পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর দুপুরে ভেদরগঞ্জ থানা ব্রিজসংলগ্ন ঢাকা আবাসিক হোটেলের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত আবুল বাশার তালুকদার ৪০ বছর বয়সী। তিনি গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার দেউলিয়াবাড়ি গ্রামের মৃত জোনাব আলী তালুকদারের ছেলে। আবুল বাশার গাজীপুর সদর উপজেলার ৮২ নম্বর খোলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন।

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ অক্টোবর সকালে গাজীপুরের নিজ বাড়ি থেকে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার চামটা ইউনিয়নে দাদার বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন আবুল বাশার। এরপর তার মোবাইল ফোন থেকে স্ত্রীকে কল করে চিকিৎসার কথা বলে ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। এ সময় তার স্ত্রী অবস্থান জানতে চাইলে সেখানে গিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার কথা বলেন। তবে ফোনের অপর প্রান্ত থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো অবস্থান জানানো হয়নি।

একপর্যায়ে ওই মোবাইল ফোন থেকে আবুল বাশারকে শুয়ে থাকা অবস্থায় একটি ছবিও পাঠানো হয়। টাকা না দিলে তার মরদেহ খুঁজে পাওয়া যাবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ স্বজনদের। এরপর পরিবারের সদস্যরা একাধিকবার ফোন করলেও কেউ কল রিসিভ করেননি। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পরিবারের সদস্যরা গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানায় যোগাযোগ করেন। পরে মোবাইল ফোনের অবস্থান শনাক্ত করে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে তার অবস্থানের তথ্য পাওয়া যায়। বিষয়টি ভেদরগঞ্জ থানা পুলিশকে জানানো হলে ঢাকা আবাসিক হোটেলের একটি কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত শিক্ষকের ভাগনে কবির হোসেন বলেন, তার মামা রোববার সকালে গাজীপুর থেকে শরীয়তপুরের নড়িয়ায় দাদার বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। রোববার থেকে তিনি বন্ধুর বাড়িতে আছেন বলে জানানো হচ্ছিল। তবে সোমবার মামার মোবাইল ফোন থেকে অন্য একজন দুই দফায় চিকিৎসার কথা বলে টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে মরদেহ খুঁজে পাওয়া যাবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল। পরে ভেদরগঞ্জের ঢাকা আবাসিক হোটেল থেকে তার মামার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোসাইরহাট সার্কেলের মো. শামসুল আরেফীন বলেন, ঢাকা আবাসিক হোটেল থেকে আবুল বাশার তালুকদার নামে এক শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অপরাধস্থল পরিদর্শন ও তদন্তের জন্য একটি অপরাধস্থল তদন্ত দল আসবে। তদন্তের পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর থেকে হোটেলটির মালিক আতাউর রহমান ও ম্যানেজার মামুন পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে শিক্ষকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোন থেকে টাকা দাবির ঘটনায় কারা জড়িত, কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে এবং হোটেল মালিক ও ম্যানেজারের পলাতক থাকার সঙ্গে ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্তের পর জানা যাবে।