সারাদেশ

চুয়াডাঙ্গায় মদপানে ৬ জনের মৃত্যু: কবর থেকে চার মরদেহ উত্তোলনের সিদ্ধান্ত


নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৫, ০৮:৪৭ এএম

চুয়াডাঙ্গায় মদপানে ৬ জনের মৃত্যু: কবর থেকে চার মরদেহ উত্তোলনের সিদ্ধান্ত
ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ডিঙ্গেদহ এলাকায় বিষাক্ত মদপানে ছয়জনের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এ ঘটনায় প্রশাসন আদালতের নির্দেশে চারজনের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহগুলো উত্তোলন করে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জামাল আল নাসের আলী।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এ ঘটনায় সদর থানায় ইতোমধ্যে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে দুইজনের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হলেও বাকি চারজনকে গোপনে দাফন করে ফেলেছিল পরিবার। আদালতের নির্দেশে এবার সেই চার মরদেহ উত্তোলন করে পুনরায় ময়নাতদন্ত করা হবে।

যাদের মরদেহ উত্তোলন করা হবে তারা হলেন—চুয়াডাঙ্গা সদরের পিরোজখালি গ্রামের নবীছউদ্দিনের ছেলে লাল্টু হোসেন, খেজুরা গ্রামের মৃত দাউদ আলীর ছেলে সেলিম (৪৫), নফরকান্দি গ্রামের নিজাম উদ্দিনের ছেলে খেদের আলী (৫০) এবং শংকরচন্দ্র গ্রামের শহিদুল মোল্লা।

ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) রাতে। ওই রাতে সদর উপজেলার ডিঙ্গেদহ বাজার এলাকায় স্থানীয় কয়েকজন মিলে অ্যালকোহল পান করেন। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন। একে একে ছয়জনের মৃত্যু হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার আরও একজনের মৃত্যুর পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং নিহতদের পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারে, তাদের মধ্যে চারজনকে গোপনে দাফন করা হয়েছে।

নিহতরা হলেন—নফরকান্তি গ্রামের ভ্যানচালক খেদের আলী (৪০), খেজুরা হাসপাতালপাড়ার মাছ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সেলিম (৪০), পিরোজখালি স্কুলপাড়ার ভ্যানচালক মোহাম্মদ লালটু ওরফে রিপু (৩০), শংকরচন্দ্র মাঝেরপাড়ার শ্রমিক মোহাম্মদ শহীদ (৪৫), ডিঙ্গেদহ টাওয়ারপাড়ার মিল শ্রমিক মোহাম্মদ সামির (৫৫) এবং ডিঙ্গেদহ এশিয়া বিস্কুট ফ্যাক্টরি এলাকার শ্রমিক সরদার মোহাম্মদ লালটু (৫২)।

এদিকে, তদন্তে জানা গেছে, এই মৃত্যুর সঙ্গে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় ব্যবহৃত বিষাক্ত স্পিরিটের সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে। পুলিশ তদন্ত চালিয়ে চুয়াডাঙ্গা ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালায় এবং ঝিনাইদহ থেকে মূলহোতা ফারুক আহমেদ ওরফে ‘এ্যালকো ফারুক’ (৪০) এবং তার সহযোগী জুমাত আলী (৪৬)-কে গ্রেফতার করে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ১১৭ বোতল মেয়াদোত্তীর্ণ স্পিরিট।

জিজ্ঞাসাবাদে ফারুক স্বীকার করেছে, সে দীর্ঘদিন ধরে কোনো বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই হোমিও চিকিৎসার আড়ালে মেয়াদোত্তীর্ণ ও বিষাক্ত অ্যালকোহল বিক্রি করত এবং চুয়াডাঙ্গাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ দিত। পুলিশের ধারণা, ফারুকের সরবরাহ করা ওই স্পিরিট পান করেই ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ জানায়, জনস্বার্থে এই ধরনের অপরাধ দমনে তারা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধ মদ ও বিষাক্ত অ্যালকোহল বিক্রি ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।