সারাদেশ
সুন্দরবনে রিসোর্ট মালিক ও দুই পর্যটক অপহরণ: ৪০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি বনদস্যুদের
সুন্দরবনে সশস্ত্র বনদস্যু বাহিনীর হাতে রিসোর্ট মালিক ও দুই পর্যটক অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বিকেলে সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের ঢাংমারী এলাকার কেনুর খাল থেকে তাঁদের অপহরণ করা হয়।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাতে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
অপহৃতরা হলেন ঢাংমারী এলাকায় অবস্থিত ‘রিসোর্ট গোলকানন’-এর মালিক শ্রীপতি বাছাড় এবং ঢাকার বাসিন্দা দুই পর্যটক মো. সোহেল ও জনি (স্থানীয়ভাবে রাজু নামেও পরিচিত)। রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, দস্যুরা জিম্মিদের মুক্তির বিনিময়ে ৪০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে।
বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার দুপুরে নারী-পুরুষসহ চারজন পর্যটক ঢাকা থেকে সুন্দরবনে ভ্রমণে আসেন। তাঁরা ঢাংমারী এলাকার রিসোর্ট গোলকাননে বুকিং নিয়ে রাতযাপনের প্রস্তুতি নেন। বিকেলে রিসোর্ট মালিক শ্রীপতি বাছাড়সহ চারজন পর্যটক একটি নৌকায় করে রিসোর্টসংলগ্ন বনের একটি ছোট খালে ভ্রমণে বের হন।
এ সময় খালের ভেতর থেকে সশস্ত্র বনদস্যুরা অস্ত্রের মুখে নারীসহ মোট পাঁচজনকে অপহরণ করে। পরে রাতে দুই নারী পর্যটককে ছেড়ে দিয়ে রিসোর্টে ফেরত পাঠানো হলেও রিসোর্ট মালিক ও দুই পুরুষ পর্যটককে জিম্মি করে নিয়ে যায় দস্যুরা।
রিসোর্ট মালিকের ছোট ভাই উত্তম বাছাড় জানান, অপহৃতদের ছেড়ে দিতে দস্যুরা ৪০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে। পরিবার ও কর্তৃপক্ষ চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে সময় পার করছে।
ঘটনার পর থেকে কোস্ট গার্ড, বনরক্ষী, থানা-পুলিশ ও নৌ-পুলিশ যৌথভাবে অপহৃতদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে। তবে শনিবার রাত ৯টা পর্যন্ত এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কাউকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
সুন্দরবনের ঢাংমারী স্টেশন কর্মকর্তা সুরজিৎ চৌধুরী জানান, অপহরণের বিষয়টি তিনি শুনেছেন, তবে কোন দস্যু বাহিনী এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত-তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
দাকোপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান অপহরণের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “রিসোর্ট মালিক ও দুই পর্যটককে উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ অভিযান চলছে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছি।”
বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, সুন্দরবনে এর আগে জেলে, মাওয়ালি ও বাওয়ালিদের অপহরণের ঘটনা ঘটলেও পর্যটক অপহরণের ঘটনা এটিই প্রথম। এ ঘটনার পর শনিবার সারাদিন রিসোর্ট এলাকায় কোনো পর্যটক বা ট্যুরিস্ট নৌযানের যাতায়াত হয়নি। এতে পর্যটননির্ভর এই এলাকায় আতঙ্ক ও উদ্বেগ আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।