সারাদেশ

কুমির সরিয়ে নেওয়ায় ক্ষোভ খাদেমের, মাজারের দিঘিতে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৭:৪৮ পিএম

কুমির সরিয়ে নেওয়ায় ক্ষোভ খাদেমের, মাজারের দিঘিতে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি
ছবি: সংগৃহীত

বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হজরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার সংলগ্ন দিঘি থেকে একমাত্র মিঠাপানির কুমির সরিয়ে নেওয়াকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মাজারের প্রধান খাদেম। দ্রুত কুমিরটিকে আগের স্থানে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

তিন দিন আগে কুমিরের আক্রমণে এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনার পর প্রশাসন ও বন বিভাগ কুমিরটিকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর বুধবার (৩ জুন) বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে কুমিরটিকে খুলনার বন্য প্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়।

মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম বলেন, সাড়ে পাঁচশ বছর ধরে তাদের পরিবার এই মাজার ও দিঘির দেখভাল করে আসছে। কুমিরটি বাগেরহাটের মানুষের ঐতিহ্য ও সম্পদের অংশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুর্ঘটনা যেকোনো জায়গায় ঘটতে পারে, কিন্তু এ কারণে কুমির সরিয়ে নেওয়া সঠিক সিদ্ধান্ত হয়নি।

তিনি আরও বলেন, একটি দুর্ঘটনার কারণে ঐতিহ্য নষ্ট করা উচিত নয়। কুমির দেখতে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসে, তাই এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আগের জায়গায় ফিরিয়ে দেওয়া প্রয়োজন।

তবে অনেক দর্শনার্থী নিরাপত্তার স্বার্থে কুমির সরানোর সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন। তাদের মতে, উপযুক্ত বেষ্টনী তৈরি করে কুমিরটিকে জনসাধারণের জন্য নিরাপদভাবে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

২০০০ সালে আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংঘ ঘোষণা করেছিল যে, মিঠাপানির কুমির বাংলাদেশে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। মাজারের দিঘির কুমিরগুলো সেই বিরল প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত বলে ধারণা করা হয়।

করমজল বন্য প্রাণী ও কুমির প্রজনন কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির বলেন, যথাযথ ব্যবস্থা নিলে ওই দিঘির এক পাশে কুমির প্রজনন কেন্দ্র গড়ে তোলা সম্ভব। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন নদী থেকে উদ্ধার হওয়া মিঠাপানির কুমির এ ক্ষেত্রে কাজে লাগানো যেতে পারে।

অন্যদিকে, বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল জানান, মিঠাপানির কুমিরকে লোনাপানির সুন্দরবনে ছাড়া হবে না। প্রাণীটির জন্য উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বাগেরহাট সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোসা. আতিয়া খাতুন বলেন, কুমিরটির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে পরে জানানো হবে।