সারাদেশ

জীবননগরে ক্যারাম বোর্ডে জুয়ার আসর, অভিযানে মামলা ১৪ জনের বিরুদ্ধে


নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:২২ পিএম

জীবননগরে ক্যারাম বোর্ডে জুয়ার আসর, অভিযানে মামলা ১৪ জনের বিরুদ্ধে
ছবি: সংগৃহীত

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় ক্যারাম বোর্ডের মাধ্যমে জুয়া খেলার অভিযোগে অভিযান চালিয়ে ১৪ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ৪ থেকে ৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ।

শনিবার (৪ জুলাই) চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি সূত্রে জানা যায়, অভিযানের সময় জুয়ার আসরে থাকা ব্যক্তিরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়। ফলে কাউকে আটক করা সম্ভব না হলেও ঘটনাস্থল থেকে দুটি ক্যারাম বোর্ড জব্দ করা হয়েছে।

জীবননগর থানার উপ-পরিদর্শক পবিত্র কুমার বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে জীবননগর উপজেলার বাঁকা গ্রামের রহিম মণ্ডলের ছেলে মো. দেলোয়ার হোসেন (৩৬)-কে। এছাড়া আরও ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৩ জুলাই) রাত ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, জীবননগর-দর্শনা মহাসড়কের পাশে একটি চায়ের দোকানে ক্যারাম বোর্ডের মাধ্যমে জুয়ার আসর বসেছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পুলিশ দ্রুত সেখানে অভিযান চালায়।

রাত আনুমানিক ১০টা ৫০ মিনিটে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে জুয়ার আসরে থাকা ব্যক্তিরা অন্ধকারের সুযোগে পালিয়ে যায়। পরে দোকানটি তল্লাশি করে দুটি কাঠের ক্যারাম বোর্ড জব্দ করা হয়, যার মোট মূল্য প্রায় ২০ হাজার টাকা। জব্দ তালিকা প্রস্তুত করে আলামত থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, প্রধান আসামি দেলোয়ার হোসেন তার চায়ের দোকানকে নিয়মিত জুয়ার আসর হিসেবে ব্যবহার করতে দিতেন এবং অন্যান্য আসামিরা সেখানে অর্থের বিনিময়ে জুয়া খেলায় অংশ নিতেন।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬-এর ১৫, ১৮, ১৯ ও ২০ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোলাইমান শেখ বলেন, জুয়া, মাদক ও অন্যান্য অপরাধ দমনে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবির খান জানান, জেলার বিভিন্ন স্থানে খেলার আড়ালে জুয়ার আসর বসানোর তথ্য রয়েছে। এসব বিষয়ে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা নজরদারি জোরদার করেছে। তিনি আরও বলেন, অপরাধ দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে জেলা পুলিশ এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।