সারাদেশ

বন্ধ ছয় চিনিকল চালুর উদ্যোগ, আসছে আধুনিক প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৫৭ পিএম

বন্ধ ছয় চিনিকল চালুর উদ্যোগ, আসছে আধুনিক প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিনের লোকসান ও উৎপাদন বন্ধের সংকট কাটিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিশিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে বন্ধ থাকা ছয়টি চিনিকলসহ উৎপাদনমুখী সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো পর্যায়ক্রমে চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চিনিশিল্পে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ, আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত যন্ত্রপাতি যুক্ত করার উদ্যোগও রয়েছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় কেরু অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেডের চিনিকল পরিদর্শন শেষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শামছুজ্জামান সুরুজ।

তিনি বলেন, উৎপাদনমুখী সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সচল রাখা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। বন্ধ চিনিকলগুলো ধাপে ধাপে চালু করার পাশাপাশি উৎপাদন বাড়িয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে লাভজনক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সম্ভাব্য দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিএসএফআইসি চেয়ারম্যান বলেন, শুধু বন্ধ কারখানা খুলে দিলেই চিনিশিল্পের সংকটের সমাধান হবে না। উৎপাদন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত যন্ত্রপাতি সংযোজন করতে হবে। একই সঙ্গে দক্ষ জনবলের ঘাটতি পূরণে প্রয়োজনীয় নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি জানান, রাষ্ট্রায়ত্ত ১৫টি চিনিকলের মধ্যে শ্যামপুর, সেতাবগঞ্জ, কুষ্টিয়া, পাবনা, পঞ্চগড় ও রংপুর চিনিকলের উৎপাদন ২০২০ সালের ডিসেম্বরে বন্ধ হয়ে যায়। এতে শ্রমিক-কর্মচারীদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকার আখচাষিরাও আর্থিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

শামছুজ্জামান সুরুজ বলেন, একটি চিনিকলকে শুধু চিনি উৎপাদনের কারখানা হিসেবে দেখলে হবে না। এর সঙ্গে আখচাষি, শ্রমিক-কর্মচারী, ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার বিস্তৃত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড জড়িত। বন্ধ চিনিকলগুলো চালু করা সম্ভব হলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, আখচাষ বাড়বে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে গতি ফিরবে।

চিনিশিল্পকে টেকসই করতে আখচাষিদের উৎপাদনে ফেরানো ও তাদের উৎসাহিত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। চাষিদের উৎসাহিত করতে আখের মূল্য প্রতি কুইন্টাল ৬০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬২৫ টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি আখচাষিদের প্রণোদনার পরিমাণ দ্বিগুণ করে ৬ কোটি টাকা থেকে ১২ কোটি টাকা করা হয়েছে।

আখচাষিদের পাওনা পরিশোধের প্রক্রিয়া সহজ করতে ডিজিটাল ব্যবস্থাও চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আখের ওজন সম্পন্ন হওয়ার পরপরই চাষির মোবাইল ফোনে খুদে বার্তার মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের তথ্য জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে পাওনা অর্থের জন্য আগের মতো বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরতে হচ্ছে না।

এ ছাড়া সফটওয়্যারভিত্তিক ব্যবস্থার মাধ্যমে আখচাষিদের আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও চাষাবাদসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চিনিকলের আধুনিকায়নের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষার ওপরও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে বিএসএফআইসি চেয়ারম্যান বলেন, ভবিষ্যতে সরকারি চিনিকলগুলোকে আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও স্বনির্ভর শিল্পপ্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হবে।

মতবিনিময় সভায় কেরু অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান সভাপতিত্ব করেন। সভায় বিএসএফআইসির সচিব মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান, শিল্প মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব আব্দুল ওয়াহেদ, বিএসএফআইসির অতিরিক্ত পরিচালক আজহারুল ইসলাম, অতিরিক্ত মহাপরিচালক মুহাম্মদ খাদেমুল বাশার, খুলনা উপপরিচালক নাসিফ কবিরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় কেরু অ্যান্ড কোম্পানির কর্মকর্তা-কর্মচারী, শ্রমজীবী ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ, আখচাষি নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।