সারাদেশ

মনোহরদীতে ভুয়া সাংবাদিক শাকিলের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ জনতা, দাবি গ্রেফতারের


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৫, ০২:২০ পিএম

মনোহরদীতে ভুয়া সাংবাদিক শাকিলের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ জনতা, দাবি গ্রেফতারের
ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

মনোহরদী-বেলাবোর একসময়কার আতঙ্কের নাম কাজী শরিফুল ইসলাম শাকিল। সাবেক শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ হুমায়ূনের ছেলে সাদীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও প্রধান সেনাপতি হিসেবে পরিচিত এই শাকিল এখন আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। স্থানীয় প্রভাবশালী মহল, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষ তার কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন।

সম্প্রতি এক ফেসবুক লাইভে মনোহরদীর ইউএনওকে প্রকাশ্যে বদলির হুমকি দেয় শাকিল। এ সময় সে স্থানীয় প্রশাসন, বিএনপি নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক সমাজ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ ও হুমকি প্রদান করে। ফেসবুক লাইভে সাবেক শিল্পমন্ত্রীর প্রশংসা করতে গিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের ‘ল্যাংটা’ করে দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের তথাকথিত নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা করাতেও সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিল এই শাকিল। রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ের সুযোগ নিয়ে সে ভুয়া সাংবাদিক পরিচয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের টার্গেট করত এবং তাদের কাছ থেকে সুবিধা আদায় করত। তবে গত ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর তার অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে। এরপর থেকে প্রশাসন ও বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে ফেসবুকে কুৎসা রটানো এবং ব্ল্যাকমেইলের পথ বেছে নেয় সে।

মনোহরদীর একজন সিনিয়র সাংবাদিক জানান, “শাকিল কোনো সাংবাদিক নয়। তার কর্মকাণ্ডে আমরা বিব্রত ও লজ্জিত। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, প্রশাসন তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। নেপথ্যে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি তাকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে আসছে।”

অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় কলেজের প্রভাষকসহ একাধিক শিক্ষককে ফেসবুকে অপমানজনক পোস্ট দিয়ে শাকিল টাকা আদায় করেছে। 

খিদিরপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আপন ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, “আওয়ামী লীগ আমলে সাদীর ভয় দেখিয়ে শাকিল আমার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়েছিল। কিন্তু ৫ আগস্টের পরেও সে আমার কাছে চাঁদা দাবি করে। না দেওয়ায় আমার বিরুদ্ধে ফেসবুকে মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে।” তিনি শাকিলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এছাড়া সম্প্রতি ফেসবুকে ইউএনওকে বিদায় জানানোর ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট দিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দেয় শাকিল। অভিযোগ রয়েছে, মনোহরদী কারিগরি কলেজের কমিটিতে জায়গা না পেয়ে সে কলেজের অধ্যক্ষ ও ইউএনওর বিরুদ্ধে কুৎসা রটায়।

শুধু তাই নয়, গত ১১ জুন মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে স্থানীয়রা তাকে গণধোলাই দেয়। দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ ঘটায় সাধারণ মানুষ ও ছাত্রসমাজ। ইয়াবা ব্যবসা, চাঁদাবাজি এবং ভুয়া সাংবাদিক পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে জনতার হাতে ধরা পড়ে অপদস্থ হয় শাকিল। ঘটনার পর থেকে সে ঢাকায় অবস্থান করে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের লাগাতার হুমকি দিয়ে সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, এখনই যদি ভুয়া সাংবাদিক পরিচয়ধারী কাজী শরিফুল ইসলাম শাকিলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে মনোহরদীতে অপসাংবাদিকতা, চাঁদাবাজি ও প্রতারণা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। তাই তারা দ্রুত তার গ্রেফতার ও বিচার দাবি করেছেন।

তবে এসব বিষয়ে অভিযুক্ত কাজী শরিফুল ইসলাম শাকিলের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।