সারাদেশ

৮ মাসে ১২০ ধর্ষণ গাইবান্ধায়, ভুক্তভোগী বেশির ভাগই স্কুল-কলেজের কিশোরী


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৬:৩২ পিএম

৮ মাসে ১২০ ধর্ষণ গাইবান্ধায়, ভুক্তভোগী বেশির ভাগই স্কুল-কলেজের কিশোরী
ছবি: সংগৃহীত

গাইবান্ধায় ক্রমেই আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ধর্ষণ ও নারী-শিশু নির্যাতনের ঘটনা। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে জেলার বিভিন্ন এলাকায় দেড় শতাধিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের মধ্যে বেশির ভাগই স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী ও শিশু।

স্থানীয় নারী অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এসব অপরাধ বৃদ্ধির পেছনে অন্যতম কারণ বিচারহীনতা ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের হাতে স্মার্টফোন এবং ইন্টারনেট ব্যবহারে অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশাধিকার। অন্যদিকে, পুলিশের দাবি, শুধু আইন প্রয়োগ করলেই চলবে না, পাশাপাশি অভিভাবক ও সমাজের প্রত্যেককে হতে হবে আরও বেশি সচেতন ও দায়িত্বশীল।

ধর্ষণের ঘটনায় গাইবান্ধায় প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ১৫ জন নারী ও শিশু হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সদর হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, জেলার সাত উপজেলায় ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ১২০ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ৩-১০ বছর বয়সের ১৪ জন, ১১-১৮ বছর বয়সের ৮৭ জন এবং ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে ১৯ জন।

 সবচেয়ে বেশি ধর্ষণের শিকার হয়েছে ১১-১৮ বছরের শিশু ও স্কুল-কলেজগামী কিশোরীরা। এতে আতঙ্কিত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘রাস্তাঘাটে নিশ্চিন্তে চলাফেরা করা যায় না। সবসময় আতঙ্কে থাকতে হয়। ধর্ষণ বেড়ে যাওয়ার প্রধান কারণ হচ্ছে বিচারহীনতা ও নারীদের প্রতি কিছু মানুষের নেতিবাচক মনোভাব।’
 
অভিভাবকেরা বলেন, ‘মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে পরিবারে মানসিক চাপ বেড়ে গেছে। ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে খোলাখুলি আলোচনার মাধ্যমে কাউন্সেলিং প্রয়োজন, এই ধরনের কাজ করা যাবে না।’

নারী, শিশু ও মহিলা বিষয়ক সংগঠনগুলো বলছে, বিচারহীনতার সংস্কৃতি, অশ্লীলতা এবং পর্নোগ্রাফির কারণে ধর্ষণের মতো অপরাধ বাড়ছে। অভিযুক্তরা গ্রেফতার হলেও আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে অনেকেই পার পেয়ে যাচ্ছে।
 
গাইবান্ধা মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রিক্তু প্রসাদ বলেন, ‘সমাজে যে বিচারহীনতার সংস্কৃতি রয়েছে, সেটিই নারীর ওপর নির্যাতনের ঘটনা বাড়ার কারণ।’

গাইবান্ধা বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্রের সংগঠক কলি রানী বর্মন বলেন, ‘যুবক ও তরুণদের মধ্যে অনেকেই পর্নোগ্রাফির প্রতি আসক্ত। এ বিষয়ে পুলিশের নজরদারির প্রয়োজন আছে।’
 
আইনের প্রয়োগের পাশাপাশি অভিভাবকসহ সবাইকেই সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে পুলিশ। গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শরিফুল আলম বলেন, ‘আমাদের অফিসারদের সজাগ দৃষ্টি রাখতে সতর্ক করা হচ্ছে। মা-বাবাকে সচেতন হতে হবে যাতে বাচ্চারা বেশি রাত পর্যন্ত বাইরে না থাকে। স্কুল-কলেজে সচেতনতা বাড়ানোর কাজও আমরা চালাচ্ছি।’ 

উল্লেখ্য, জেলায় গত ৮ মাসে ১৫৫টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। ২০২৪ সালে এক বছরে ১৬২ জন নারী ও শিশু ধর্ষণ এবং ২২২ জন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।