সারাদেশ
বিরামপুর ও যশোর-বেনাপোল সীমান্তে ৬ ডিসেম্বর মুক্ত দিবস পালন
বিজয়ের মাস ডিসেম্বরের ৬ তারিখ বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বিশেষ দিন। এ দিনটি দেশের দুই প্রান্তে-দিনাজপুরের বিরামপুর এবং যশোর-বেনাপোল সীমান্তে-মুক্ত দিবস হিসেবে পালন করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ, আলোচনা সভা, শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া মাহফিলে বরণ করা হয় মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর সন্তানদের গৌরবগাথা।
দিনাজপুরের বিরামপুরে শনিবার দুপুরে আল-মদিনা ট্রাভেল এন্ড ট্রেডে আয়োজন করা হয় মুক্ত দিবস উদ্যাপন অনুষ্ঠান। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমাণ্ডারের আহবায়ক শাসুদ্দিন মণ্ডল আবুলের সভাপতিত্বে এবং সাংবাদিক মাহমুদুল হক মানিকের সঞ্চালনায় মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষাবিদ, পেশাজীবী ও সূধীজনের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। বক্তব্য রাখেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমাণ্ডারের সদস্য সচিব মোস্তাক হোসেন মাস্টার, মুক্তিযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক অ্যাডভোকেট মওলা বক্স, পৌর মুক্তিযোদ্ধা কমাণ্ডারের সদস্য সচিব ইছাহাক আলী, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি উপাধ্যক্ষ একেএম শাহজাহান, সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অদৈত্য কুমার অপু, উন্নয়ন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক, পেশাজীবী ঐক্য পরিষদের আহবায়ক রফিকুল ইসলাম, ঢাকার সাংবাদিক গোবিন্দ শীলসহ স্থানীয় সাংবাদিক-সুধীজন।
অন্যদিকে একই দিনে যশোর ও বেনাপোল সীমান্ত এলাকা পালন করে ঐতিহাসিক মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে মিত্রবাহিনীর সহায়তায় মুক্তিযোদ্ধাদের প্রবল প্রতিরোধের মুখে পাক হানাদাররা বেনাপোল-শার্শা এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়। একইদিন যশোর সেনানিবাসও পাকবাহিনী খালি করে পালিয়ে যায়, ফলে যশোর জেলা শত্রুমুক্ত হয় এবং প্রথমবারের মতো বিজয়ী বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা উড়ে স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়।
মুক্তিযুদ্ধের সময় যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা ও নড়াইলসহ বৃহত্তর যশোর অঞ্চলে মুক্তিবাহিনী ও পাকবাহিনীর মধ্যে ঘটে তুমুল যুদ্ধ। ডিসেম্বরের শুরুতে পেট্রাপোল–বেনাপোল–কাশিপুর এলাকাজুড়ে হওয়া লড়াই শেষে ৬ ডিসেম্বর পুরো অঞ্চল শত্রুমুক্ত হয়।
বেনাপোলের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শাহ আলম জানান, “৬ ডিসেম্বর সম্মুখযুদ্ধে হানাদার বাহিনী আমাদের কাছে পরাজিত হয়ে এলাকা ছেড়ে পালায়। এদিন বেনাপোল-যশোর সীমান্ত শত্রুমুক্ত হয়।” তিনি কষ্ট প্রকাশ করে আরও বলেন, “দেশ স্বাধীন করতে আমরা জীবনবাজি রেখেছি, অথচ আজও আমরা অনেক ক্ষেত্রে অবহেলিত।”