সারাদেশ
ফরিদপুর-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর দুই কর্মীকে কুপিয়ে গুরুতর জখমের অভিযোগ
ফরিদপুর-১ আসনের মধুখালী উপজেলায় নির্বাচনি প্রচারণা ও ব্যানার টানানোকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক আপন দুই ভাইকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষ বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি ঘটে বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাতের দিকে মধুখালী উপজেলার জাহাপুর ইউনিয়নের দোস্তরদিয়া গ্রামে। আহত দুই ভাই হলেন- ওই গ্রামের জাহিদ হাসানের ছেলে আবিদ হাসান রনি (২৫) ও আলিফ হাসান (২৩)। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁদের রাতেই ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের বরাতে জানা গেছে, দু’জনেরই বুক, পেট ও হাতে ধারালো অস্ত্রের একাধিক গভীর ক্ষত রয়েছে এবং তাঁদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আহত দুই ভাই ফরিদপুর-১ আসনে ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল বাসার খান–এর সক্রিয় সমর্থক। নির্বাচনি প্রচারণার অংশ হিসেবে ব্যানার টানানোর সময় এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আহতদের পিতা জাহিদ হাসান অভিযোগ করে বলেন, “আমরা স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল বাসার খানের পক্ষে ফুটবল প্রতীকের প্রচারণা চালাচ্ছিলাম। বিকেলে ব্যানার টানানোর সময় বিএনপি প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলামের সমর্থক জিহাদ বাধা দেয়। একপর্যায়ে সে ধারালো ছুরি দিয়ে আমার দুই ছেলেকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।”
এ বিষয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল বাসার খান বলেন, তাঁর কর্মীদের নির্বাচনি প্রচারণায় বাধা দিয়ে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বিষয়টি দ্রুত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে অবহিত করেছেন বলেও জানান।
অন্যদিকে, বিএনপি প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলাম তাঁর সমর্থকদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, “বিএনপির কোনো কর্মী এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। স্বতন্ত্র প্রার্থীর অনেক দেনা-পাওনা রয়েছে, সম্ভবত পাওনাদাররা এ হামলা করতে পারে। পুলিশ সুষ্ঠু তদন্ত করলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।”
এ বিষয়ে মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, “ঘটনাটি তদন্ত করে হামলার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করা হবে। তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নির্বাচনের সময় সহিংসতার এই ঘটনায় স্থানীয়ভাবে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।