সারাদেশ

দুই দশক পর রেলওয়ের সিসিএস দপ্তরের সংস্কার শুরু, কাজ চলাকালেই আগুন — অল্পের জন্য বড় ক্ষতি এড়ানো


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০২৬, ১০:০৯ এএম

দুই দশক পর রেলওয়ের সিসিএস দপ্তরের সংস্কার শুরু, কাজ চলাকালেই আগুন — অল্পের জন্য বড় ক্ষতি এড়ানো
ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর বাংলাদেশ রেলওয়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রকিউরমেন্ট বিভাগ চীফ কন্ট্রোলার অব স্টোরস (সিসিএস) দপ্তরের অবকাঠামোগত সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে অবস্থিত এই দপ্তরের দীর্ঘদিনের অবহেলিত অবকাঠামো সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন বর্তমান চীফ কন্ট্রোলার অব স্টোরস বেলাল হোসেন সরকার। সংশ্লিষ্টদের মতে, তাঁর উদ্যোগেই বহুদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের মালামাল ক্রয় ও সরবরাহ ব্যবস্থার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত সিসিএস দপ্তরের অধীনে P1 থেকে P7 পর্যন্ত একাধিক ক্রয় বিভাগ, শিপিং সেকশন, ইন্সপেকশন বিভাগ এবং গোডাউন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। দেশের রেল ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় অধিকাংশ মালামাল ক্রয়, গ্রহণ, সংরক্ষণ ও বিভিন্ন দপ্তরে সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ কাজ এখান থেকেই সম্পন্ন হয়।
তবে দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামোগত সংস্কার না হওয়ায় দপ্তরটির বিভিন্ন ভবনের অবস্থা ছিল নাজুক। ছাদ ও সিলিংয়ের ক্ষতি, ভাঙাচোরা ফ্লোর, দেয়ালে ফাটল, নষ্ট দরজা–জানালা এবং পুরোনো বৈদ্যুতিক ও পানির লাইন কর্মকর্তা–কর্মচারীদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করেছিল। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংরক্ষণ নিয়েও ছিল উদ্বেগ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দায়িত্ব গ্রহণের পর সিসিএস বেলাল হোসেন সরকার দপ্তরের সার্বিক অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। পরে তিনি বাংলাদেশ রেলওয়ের চিফ ইঞ্জিনিয়ার, জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) এবং ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) পূর্বসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দপ্তর পরিদর্শনে আমন্ত্রণ জানান। তাঁদের সামনে দপ্তরের অবকাঠামোগত ঝুঁকি ও সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতেই সিসিএস দপ্তরের সংস্কার কাজ শুরু হয়, যা বর্তমানে চলমান রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংস্কার কাজ শেষ হলে দপ্তরের কর্মপরিবেশ উন্নত হওয়ার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও মালামাল সংরক্ষণেও নিরাপত্তা বাড়বে।
এদিকে সংস্কারকাজ চলাকালে গত ১৩ মার্চ রাত আনুমানিক ১১টা ১০ মিনিটে দপ্তরের পেছনের অংশে আগুনের একটি ঘটনা ঘটে। নিয়মিত টহলের সময় রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) সদস্য মো. সাব্বির হোসেন প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক দপ্তরের পেছনের দিকে আগুনের ফুলকি দেখতে পান। পরে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানিয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, উপরের টিনে চলমান ওয়েল্ডিং কাজের ফুলকি অথবা বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। এতে পূর্বের আইবি সেকশনের পেছনে রাখা কিছু পুরোনো কাগজপত্র আংশিকভাবে পুড়ে গেছে।
দপ্তরের সংস্কারকাজ চলমান থাকায় প্রায় এক মাস আগে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রসহ অধিকাংশ অফিস সরঞ্জাম সাময়িকভাবে শিপিং দপ্তরে স্থানান্তর করা হয়েছিল। ফলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এদিকে ঘটনাটি তদন্তে জেলা সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (ক্রয়–১) মো. আরিফুজ্জামান শিকদারকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।