সারাদেশ
রক্ষকই ভক্ষক, বন গবেষণা কেন্দ্রের কর্মচারীরাই চুরি করছে গাছ
উত্তরাঞ্চলের একমাত্র চরকাই বন গবেষণা কেন্দ্রে চলছে গাছ চুরির মহোৎসব। এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, গবেষণা কেন্দ্রের ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে কাটা হচ্ছে গাছ। প্রতিনিয়ত গাছ চুরির ফলে উজাড় হয়ে যাচ্ছে গবেষণা কেন্দ্রের ১৯২ একর বনভূমি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট সাইফুল ইসলাম গত ২১ এপ্রিল গাছ চুরি করে নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও এলাকাবাসী কিছু গাছ জব্দ করেন। এ সময় তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে গাছ বাড়িতে নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন।
স্থানীয়রা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকেই সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি চক্র বন থেকে গাছ কেটে উজাড় করতে থাকে। এ বিষয়ে স্টেশন কর্মকর্তাকে একাধিকবার জানানো হলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। ফলে সাইফুল ইসলাম আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। অভিযোগ রয়েছে, গত দুই বছরে প্রায় ১০০ একর বাগানের গাছ কেটে চুরি করা হয়েছে।
গ্রামবাসীর অভিযোগ, গাছ চুরি প্রতিরোধে তারা সহযোগিতা করতে চাইলেও কর্মকর্তারা তা গ্রহণ না করে উল্টো চোরদের সঙ্গে সখ্যতা বজায় রাখছেন। এমনকি এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া ও হুমকি দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তারা।
অভিযোগ রয়েছে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা থাকলেও গাছ চুরির ঘটনায় গবেষণা কেন্দ্রের কর্মকর্তারা থানায় কোনো মামলা করেন না। অনুসন্ধানে জানা গেছে, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশের কারণেই এ ধরনের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া হচ্ছে।
চরকাই রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে দুটি গাছ জব্দ করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো গবেষণা কেন্দ্রের পক্ষ থেকে কেউ বাদী হয়ে মামলা করেননি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চরকাই বন গবেষণা কেন্দ্রের স্টেশন কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম জানান, সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে শোকজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান বলেন, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।