সারাদেশ
কালবৈশাখীর তাণ্ডবে কুমিল্লায় বিদ্যুৎ বিপর্যয়, ২৭ হাজার গ্রাহক অন্ধকারে
কুমিল্লায় বৈশাখী ঝড় ও টানা বৃষ্টিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। জেলার ১৭টি উপজেলাতেই বিভিন্ন স্থানে খুঁটি উপড়ে পড়া, ট্রান্সফরমার ও মিটার নষ্ট হওয়ার ঘটনায় হাজার হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন।
পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঝড়ের কারণে অন্তত ৩৫টি ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়েছে এবং প্রায় ২৭ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছেন। বৈরী আবহাওয়ার কারণে দ্রুত মেরামত কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর তথ্য অনুযায়ী, ঝড়ের তাণ্ডবে ৭১টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়ে, ৫৫০টি মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ৭৩৮টি স্থানে তার ছিঁড়ে যায়। এছাড়া অন্তত ১ হাজারের বেশি স্থানে গাছ পড়ে বিদ্যুৎ লাইনের ক্ষতি হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আদর্শ সদর, সদর দক্ষিণ, লালমাই, চৌদ্দগ্রাম, বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একদিন আগেই অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করা হলেও নতুন করে ঝড়ের কারণে আবারও বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধারে কর্মীরা দিন-রাত কাজ করছেন।
ঝড়ের কারণে মঙ্গলবার সকালে এসএসসি পরীক্ষার্থীরাও চরম ভোগান্তিতে পড়েন। অনেক পরীক্ষা কেন্দ্রে বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের মোমবাতি ও চার্জার লাইটের আলোতে পরীক্ষা দিতে হয়।
এদিকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর আওতাধীন চান্দিনা, দেবিদ্বার, মুরাদনগর ও বরুড়া উপজেলাতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। এসব এলাকায় প্রায় আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ছিল সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঝড়ে বিভিন্ন এলাকায় গাছ উপড়ে পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। গাছ অপসারণ ও বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধারে কাজ চলছে।
কুমিল্লা আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলায় ১০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়ার এই পরিস্থিতি আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে বিদ্যুৎ বিপর্যয় ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব নির্ধারণে আরও সময় লাগবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।