সারাদেশ

গাজীপুরে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে জামাই নিখোঁজ, অভিযোগের তীর স্ত্রী ও শাশুড়ির দিকে!


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬, ১১:০৩ পিএম

গাজীপুরে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে জামাই নিখোঁজ, অভিযোগের তীর স্ত্রী ও শাশুড়ির দিকে!
ছবিঃ সংগৃহীত

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার নাকাই ইউনিয়নের ডুমুরগাছা গ্রামের বাসিন্দা মৃত নাছের উদ্দিন আকন্দের ছেলে মো. মোশরাফুল আকন্দ গত ২০ জুলাই থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। তিনি গাজীপুরের জয়দেবপুর থানাধীন ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের ভৌরাঘাটা এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে অবস্থানকালে নিখোঁজ হন বলে পরিবারের দাবি।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে মোশরাফুল আকন্দের সঙ্গে মোছা. অঞ্জনা বেগমের বিয়ে হয়। গত ১৮ জুলাই তারা অঞ্জনার নানীর বাড়িতে বেড়াতে যান। পরে ২০ জুলাই কাউকে না জানিয়ে তারা অঞ্জনার বাবার বাড়ি ভবানীপুরে চলে যান।

পরিবারের দাবি, ওই দিন অঞ্জনার নানী সুকুরজান বানু একাধিকবার মোশরাফুলের মোবাইলে ফোন করলে প্রতিবারই অঞ্জনা বেগম ফোন রিসিভ করেন। প্রথমবার তিনি জানান, মোশরাফুল শরবত খেয়ে ঘুমিয়ে আছেন। কিছুক্ষণ পর আবার ফোন করলে বলেন, তিনি বাথরুমে আছেন। পরে রাত ৮টার দিকে ফোন করলে মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এদিকে কয়েকদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় মোশরাফুলের সহকর্মীরা তার মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সেটি বন্ধ পান। পরে তার বড় ভাই মো. আশরাফুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারেন, তিনি গ্রামের বাড়িতেও ফেরেননি।

পরবর্তীতে মোশরাফুলের বড় ভাই অঞ্জনা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে ফোন কেটে দেন। পরে অঞ্জনার নানী সুকুরজান বানুর সঙ্গে কথা হলে তিনি দাবি করেন, মোশরাফুল কোথায় আছেন তা অঞ্জনা ও তার মা জানেন, তিনি নিজে এ বিষয়ে কিছু জানেন না।

ছোট ভাইয়ের সন্ধান না পেয়ে মো. আশরাফুল আলম জয়দেবপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডি নম্বর ১২৭৪ এবং ট্র্যাকিং নম্বর DGVFPO।

পরিবারের অভিযোগ, মোশরাফুলের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় তার স্ত্রী অঞ্জনা বেগম, শাশুড়ি এবং নানী সুকুরজান বানুর সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মোশরাফুলকে দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জয়দেবপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, নিখোঁজের ঘটনায় সাধারণ ডায়েরির ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। ইতোমধ্যে অঞ্জনা বেগম ও তার পরিবারের সদস্যদের থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে যে, অঞ্জনা বেগমের এর আগে আরেকটি বিয়ে হয়েছিল এবং সেই সংসারে তার একটি সন্তানও রয়েছে। তবে এ তথ্য মোশরাফুল বা তার পরিবার জানতেন না বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তিনি বলেন, তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।