সারাদেশ

নোয়াখালীতে মাকে গলা কেটে হত্যা, ছেলে ও শাশুড়ি গ্রেপ্তার


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৩৬ পিএম

নোয়াখালীতে মাকে গলা কেটে হত্যা, ছেলে ও শাশুড়ি গ্রেপ্তার
ছবিঃ সংগৃহীত

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় লাইলি বেগম (৪৬) নামে এক নারীকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগে তাঁর ছেলে সৌরভ হোসেন (২৮) ও শাশুড়ি তফুরা বেগমকে (৭৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

আজ শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে গ্রেপ্তার দুজনকে বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 

এর আগে শুক্রবার ভোরে সদর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গোপাই গ্রামের আলী আজম মহুরী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, সৌরভ মাদকাসক্ত ও মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নিহত লাইলি বেগম ওই বাড়ির আলমগীর হোসেনের স্ত্রী। 

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, লাইলি ও তাঁর ছেলে সৌরভ একই বসতঘরের পৃথক কক্ষে থাকতেন। আলমগীর গ্রাম পুলিশের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বাড়ি থেকে প্রায় ১৫০ গজ দূরে একটি চায়ের দোকান চালান এবং রাতে সেখানেই ঘুমাতেন। 

প্রায় ৮ থেকে ১০ দিন আগে বাড়ির সামনের পুকুরঘাটে পড়ে লাইলির বাম হাত ভেঙে যায়। এতে তিনি স্বাভাবিকভাবে ঘরের কাজ করতে পারছিলেন না। এ কারণে কয়েক দিন ধরে পরিবারের সদস্যদের খাবারের ব্যবস্থা পাশের ঘরে থাকা লাইলির সৎ শাশুড়ি তফুরা বেগমের ঘরে করা হচ্ছিল।

এদিকে পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে লাইলি তফুরার ঘরে গিয়ে খাবার খান। পরে নিজ কক্ষে ফিরে যান। রাত ১২টার দিকে আলমগীরও তফুরার ঘরে খাবার খেয়ে চায়ের দোকানে চলে যান। এরপর লাইলি ও সৌরভ নিজ নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন।

শুক্রবার ভোর ৬টার দিকে সৌরভ ঘুম থেকে উঠে তাঁর মাকে শয়নকক্ষের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তিনি বিষয়টি তফুরা বেগমকে জানান। তফুরা ঘরে গিয়ে লাইলির নিথর দেহ দেখতে পান এবং চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন।

পরে সৌরভ চায়ের দোকানে গিয়ে তাঁর বাবা আলমগীরকে ঘুম থেকে তুলে মায়ের মৃত্যুর খবর দেন। বাড়িতে ফিরে আলমগীর তাঁর স্ত্রীর মরদেহ দেখতে পান। লাইলির গলার ডান পাশে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গভীর কাটা জখম ছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এছাড়া বাম হাতের কাঁধের সামনের অংশ ও বাম হাঁটুতে ছেলা জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়।

খবর পেয়ে সুধারাম থানার এসআই সুমন বণিক সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে পিবিআই, সিআইডি ও ডিবির সদস্যরা।

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সুধারাম থানার এসআই সুমন বণিক বলেন, প্রথমে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা নেওয়া হয়েছিল। পরে তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের ছেলে সৌরভ ও তাঁর দাদী তফুরাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
  
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে সৌরভ মাদকাসক্ত ও মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে হত্যাকাণ্ডের আলামত লোপাটের চেষ্টা করার অভিযোগে তফুরাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি।