সারাদেশ

দুর্গাপূজা ঘিরে দিনাজপুরে নারিকেল-গুড়ের বাজার জমজমাট, কমেছে দাম


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৭ পিএম

দুর্গাপূজা ঘিরে দিনাজপুরে নারিকেল-গুড়ের বাজার জমজমাট, কমেছে দাম
ছবি: সংগৃহীত

শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে দিনাজপুরের বিভিন্ন হাটবাজারে বেড়েছে নারিকেল ও গুড়ের কেনাবেচা। দেবীর প্রসাদ তৈরি, নাড়ু-মোয়া প্রস্তুত এবং অতিথি আপ্যায়নের জন্য এসব উপকরণ কিনতে বাজারে ভিড় করছেন ক্রেতারা। তবে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভারতীয় নারিকেল আমদানি হওয়ায় গত বছরের তুলনায় এবার নারিকেলের দাম কিছুটা কমেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

দুর্গাপূজায় দেবীর প্রসাদ নিবেদন থেকে শুরু করে পারিবারিক আয়োজন-সব ক্ষেত্রেই নারিকেল ও গুড়ের ব্যবহার রয়েছে। বিশেষ করে নারিকেলের নাড়ু, মোয়া, মুড়ি ও বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি পূজার অন্যতম অনুষঙ্গ। এ কারণে পূজা সামনে রেখে দিনাজপুরের রেলবাজার হাটসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও পৌর এলাকার বাজারগুলোতে নারিকেল ও গুড়ের পসরা সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। ক্রেতারাও নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী প্রয়োজনীয় উপকরণ কিনছেন।

বাজার ঘুরে জানা গেছে, আকারভেদে বর্তমানে প্রতি জোড়া দেশি নারিকেল বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ২৩০ টাকায়। অন্যদিকে, ভারত থেকে আমদানি করা নারিকেলের প্রতি জোড়া পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ১৮০ টাকায়। সে হিসাবে আকারভেদে প্রতি পিস নারিকেলের দাম পড়ছে প্রায় ৮০ থেকে ১১৫ টাকা। অথচ গত বছর একই সময়ে আকারভেদে প্রতি জোড়া নারিকেল বিক্রি হয়েছিল ২৫০ থেকে ৪০০ টাকায়। এ ছাড়া নারিকেলের নাড়ু তৈরির অন্যতম উপকরণ গুড় বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১১০ থেকে ১২০ টাকায়।

ব্যবসায়ীরা জানান, গত বছরের তুলনায় এবার ভারতীয় নারিকেলের সরবরাহ বেড়েছে। বাজারে পর্যাপ্ত নারিকেল পাওয়ায় দামও তুলনামূলক কম রয়েছে। পূজাকে কেন্দ্র করে বিক্রি বাড়লেও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় ক্রেতারা আগের বছরের তুলনায় কিছুটা কম দামে নারিকেল কিনতে পারছেন।

ফুলবাড়ী বাজারে নারিকেল কিনতে আসা অরুণ চন্দ্র সাহা বলেন, ‘পূজা উপলক্ষে দুই জোড়া নারিকেল কিনেছি ৩২০ টাকায়। দুই কেজি গুড় নিয়েছি ২৪০ টাকায়। গতবারের তুলনায় এবার দাম কিছুটা কম।’

ভবানীপুর এলাকার বাসিন্দা অর্পণা রানী ও জ্যোৎস্না রানী বলেন, ‘আশ্বিন-কার্তিক মাসে সংসারে অভাব থাকে। আমরা গরিব মানুষ। যত অভাবই থাকুক, মা দুর্গার পূজায় ফলমূল, মোয়া, নাড়ু ও নারিকেল দিতে হয়। কষ্ট হলেও কিনতে হয়। তবু চারটি নারিকেল ও দুই কেজি গুড় কিনেছি। বাড়িতে বাচ্চারা আছে, অতিথি এলে তাঁদেরও আপ্যায়ন করতে হবে।’

তাঁদের কথায়, সংসারে নানা টানাপোড়েন থাকলেও দুর্গাপূজার আয়োজনের জন্য সাধ্য অনুযায়ী কেনাকাটা করতে হয়। পূজার আনন্দ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার পাশাপাশি বাড়িতে আসা অতিথিদের আপ্যায়নের বিষয়টিও তাঁদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

ফুলবাড়ী পৌরবাজারের কালীমন্দির-সংলগ্ন এলাকার নারিকেল বিক্রেতা রহিদুল ইসলাম ও মফিজুল ইসলাম জানান, দুর্গাপূজা উপলক্ষে তাঁরা আগে থেকেই নারিকেল মজুত করেছেন। এবার ভারতীয় নারিকেলের আমদানি ও সরবরাহ বেশি থাকায় দাম কিছুটা কম। পূজার সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতাদের আনাগোনাও বাড়ছে। ফলে বাজারে নারিকেল বিক্রির পরিমাণ বাড়বে বলে আশা করছেন তাঁরা।

এদিকে, দিনাজপুরে শারদীয় দুর্গাপূজার প্রস্তুতিও প্রায় শেষ পর্যায়ে। দিনাজপুর পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি স্বরূপ বকসী বাচ্চু জানান, এ বছর জেলায় ১ হাজার ২৫৩টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিমা তৈরি ও মণ্ডপ সাজানোর কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। প্রতিটি মন্দিরে উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পূজার প্রস্তুতি চলছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সুশৃঙ্খল ও আনন্দঘন পরিবেশে এবারের দুর্গাপূজা সম্পন্ন হবে। পূজাকে ঘিরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, নারিকেল ও গুড়ের বাজারে বাড়তি চাহিদা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যেও ব্যস্ততা বাড়িয়েছে।