সারাদেশ

সারের ডিলারশিপ না পেয়ে ছাত্রদল নেতার ক্ষোভ, ‘সার না দেন, বিষের ডিলারশিপ দেন’ স্ট্যাটাস ভাইরাল


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫১ পিএম

সারের ডিলারশিপ না পেয়ে ছাত্রদল নেতার ক্ষোভ, ‘সার না দেন, বিষের ডিলারশিপ দেন’ স্ট্যাটাস ভাইরাল
ছবি: সংগৃহীত

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে সারের ডিলারশিপ না পেয়ে ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রায়হান ফেরদৌস সজীব। ‘সারের ডিলারশিপ না দেন, বিষের ডিলারশিপ দেন, ত্যাগী কর্মীরা মরে যাক’-এমন মন্তব্য করে দেওয়া তার একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের সারের ডিলারশিপ না পাওয়া এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার ক্ষোভ থেকেই তিনি এমন মন্তব্য করেছেন বলে জানিয়েছেন।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে স্ট্যাটাসটি দেন সজীব। পোস্টটি প্রকাশের পরপরই তা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়।

জানা গেছে, রায়হান ফেরদৌস সজীব রায়হান ট্রেডার্সের মালিক। তার দাবি, বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের সার ডিলারশিপের জন্য সুপারিশের তালিকায় তার নাম দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত মেসার্স বিদ্যানন্দ ট্রেডার্সের মালিক মোস্তফা জামাল ডিলারশিপ পান। এতে ক্ষুব্ধ হয়েই তিনি ফেসবুকে ওই মন্তব্য করেন।

সজীবের অভিযোগ, মোস্তফা জামাল ও তার পরিবারের সদস্যরা অতীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত থেকেও তিনি ডিলারশিপ পাননি। এ নিয়ে নিজের রাজনৈতিক ত্যাগ ও বঞ্চনার কথা তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

তবে সজীবের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মেসার্স বিদ্যানন্দ ট্রেডার্সের মালিক মোস্তফা জামাল। তিনি বলেন, ‘এগুলো সব মিথ্যা। আমি ও আমার পরিবার আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত ছিলাম না।’

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও ত্যাগের দাবি

রায়হান ফেরদৌস সজীবের দাবি, প্রায় ১৭ বছর ধরে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। ২০১১ সালে বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ২০১৩ সালে রাজারহাট উপজেলা ছাত্রদলের কোষাধ্যক্ষ এবং ২০২১ সাল থেকে উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া ২০২২ সালে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের জিয়া মঞ্চের সহসভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন বলে জানান তিনি।

বিএনপির রাজনীতি করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে হামলা ও মামলার শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন সজীব। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলায় তাকে আসামি করা হয়। ২০১৭ সালে রাজারহাট সোনালী ব্যাংক চত্বরের সামনে যাওয়ার সময়ও হামলার শিকার হন বলে দাবি করেন তিনি।

অসুস্থতার মধ্যেও দলীয় কর্মসূচিতে থাকার দাবি

সজীব জানান, দীর্ঘদিন ধরে কোমরের ব্যথায় ভুগছেন তিনি। এ সমস্যার জন্য বাংলাদেশে রংপুর ও ঢাকায় চিকিৎসা নিয়েছেন। পরে ২০২০ সালে ভারতের চেন্নাইয়ে উন্নত চিকিৎসা নেওয়ার জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করলেও করোনা মহামারির কারণে সেখানে যেতে পারেননি। বর্তমানে আবারও উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

তার দাবি, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি ঠিকমতো দৌড়াতে পারেন না। এরপরও বিএনপির কোনো দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকেননি। নিজের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও ত্যাগের কথা তুলে ধরে সজীব বলেন, ‘আমি একজন জুলাইযোদ্ধা। ১৭ বছর ধরে বিএনপির জন্য এত ত্যাগ স্বীকার করলাম। বিএনপি সরকার ক্ষমতায়, কিন্তু আমি বিএনপি করেও ডিলারশিপ পেলাম না। আওয়ামী ফ্যাসিস্টরা ডিলারশিপ পায় কিভাবে?’

ডিলারশিপ পরিচালনা নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সারের ডিলারশিপ মোস্তফা জামালের নামে বরাদ্দ হলেও ব্যবসাটি পরিচালনা করছেন বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন উর রশীদ—এমন অভিযোগ রয়েছে। তবে হারুন উর রশীদ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, ‘সবাই কেন জানি এটাই ভাবছে।’ তার দাবি, ডিলারশিপের সব কাগজপত্র মোস্তফা জামালের নামে এবং ডিলারশিপও তিনিই পেয়েছেন।

এ বিষয়ে মোস্তফা জামাল বলেন, ‘হারুন উর রশীদ আমার জন্য একটু কথা বলাবলি করছিল। আমার নামে ডিলারশিপ, আর আমি চালাবো।’

কৃষি বিভাগের বক্তব্য

সারের ডিলার নিয়োগের বিষয়ে রাজারহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তুষার কান্তি রায় বলেন, সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছিল। সার ডিলারশিপ নিয়োগ কমিটিতে তিনিও রয়েছেন এবং কমিটির আরও কয়েকজন সদস্য আছেন। সবার সুপারিশের ভিত্তিতে যাকে উপযুক্ত মনে হয়েছে, তাকেই ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে।

সারের ডিলারশিপ পাওয়া নিয়ে ছাত্রদল নেতা রায়হান ফেরদৌস সজীবের ক্ষোভ, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এবং ডিলারশিপ পরিচালনা নিয়ে স্থানীয়দের বক্তব্যের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে। তবে ডিলার নিয়োগে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণ ও নিয়োগপ্রক্রিয়া পর্যালোচনা গুরুত্বপূর্ণ।