সারাদেশ
কক্সবাজারে রিসোর্টে ভয়াবহ আগুন, নিহত ১০; একই পরিবারের ৬ জনের মৃত্যু
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানীতে ‘টুপটুপ’ নামের একটি রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের ছয়জন রয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
শনিবার (তারিখ নিশ্চিত করে প্রকাশ করুন) সকাল ৮টার দিকে মেরিন ড্রাইভ সড়কের পাটোয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকায় অবস্থিত রিসোর্টটিতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন লাগার পরপরই উদ্ধারকাজ শুরু করেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। পরে উদ্ধার অভিযানে যোগ দেয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
নিহতদের মধ্যে ঢাকার বনশ্রী এলাকার বাসিন্দা আশিকুলের পরিবারের ছয় সদস্য রয়েছেন। তারা হলেন ফারিয়া কবির (৩৩), নাফিস ইবতে হামিদ (২৪), পাঁচ বছর বয়সী ফাইজান, মিথিলা মেহজাবিন (২৩), লাইলা জাহান নাবিলা (২৪) ও মালিহা (২৮)। একই পরিবারের আরও তিন সদস্য আহত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ ঘটনায় আহত ছয়জন হলেন মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০), সামিদা (৩২), নাফিজা নওয়ার খান (২৯) ও সাহাবুদ্দিন (৩১)। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহতদের মধ্যে দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময় রিসোর্টে আশিকুলের পরিবারের নয়জন সদস্য ছিলেন। তাদের মধ্যে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং বাকি তিনজন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার জানান, রিসোর্টের নিবন্ধন খাতায় ২৭ জনের নাম ছিল। তবে তাদের মধ্যে নয়জন ঘটনার সময় রিসোর্টের বাইরে ছিলেন। উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত হতাহত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মোরশেদ জানান, অগ্নিকাণ্ডের পর প্রথম পর্যায়ে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি আহত ছয়জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে আরও চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সর্বশেষ উদ্ধার হওয়া চারজনের মধ্যে একজন পুরুষ, দুজন নারী ও একটি শিশু রয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সকাল ৮টা থেকে তিনটি ইউনিট কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় সকাল ১০টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে অগ্নিকাণ্ডের পর নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে এবং হতাহতদের বিষয়ে তথ্য নিশ্চিত করতে উদ্ধার তৎপরতা চালানো হয়।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, এ ঘটনায় হতাহত ব্যক্তিরা সবাই পর্যটক ছিলেন। প্রাথমিকভাবে রিসোর্টের রান্নাঘরের চুল্লি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
তিনি আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান ও দায়দায়িত্ব নির্ধারণে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ঘটনার বিস্তারিত খতিয়ে দেখে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের পর রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের লোকজন ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে গেছেন বলে জানা গেছে। ভয়াবহ এ ঘটনায় পর্যটকদের নিরাপত্তা, রিসোর্টের অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধার কার্যক্রমের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্তের মাধ্যমে এসব বিষয়ও সামনে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।