সারাদেশ
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জরুরি প্রস্তুতি জোরদারে গুরুত্ব
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপদ পরিচালনা এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি কার্যকরভাবে মোকাবিলায় আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়, প্রশিক্ষিত জনবল ও আন্তর্জাতিক মানসম্মত নির্দেশিকা প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন। একই সঙ্গে কেন্দ্রটির জরুরি প্রস্তুতি ও সাড়াদান ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (তারিখ উল্লেখ করা হয়নি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়রা) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অংশীজনদের প্রস্তুতিমূলক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) আসন্ন ‘ইমার্জেন্সি প্রিপেয়ার্ডনেস রিভিউ মিশন’ সামনে রেখে এ কর্মশালার আয়োজন করে বায়রা।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে আধুনিক নিরাপত্তাব্যবস্থা ও স্বয়ংক্রিয় ইন্টারলক ব্যবস্থা রয়েছে। তবে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুধু প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করলেই চলবে না। এ ধরনের পরিস্থিতির আশঙ্কা কম হলেও এর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা প্রয়োজন। এ জন্য আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও বাংলাদেশের ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় কার্যকর ও সমন্বিত প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি গড়ে তুলতে হবে।
আগামী ৮ থেকে ১৮ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় আইএইএর ইমার্জেন্সি প্রিপেয়ার্ডনেস রিভিউ মিশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ মিশনকে কোনো পরীক্ষা কিংবা পাস-ফেলের বিষয় হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং এটি বিদ্যমান প্রস্তুতি মূল্যায়ন, সম্ভাব্য ঘাটতি চিহ্নিত করা এবং আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চা থেকে শিক্ষা নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশের জরুরি সাড়াদান ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করতে হবে।
জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের অভ্যন্তরীণ (অনসাইট) ও কেন্দ্রের বাইরের (অফসাইট) সাড়াদান কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন সচিব। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট, ধাপভিত্তিক ও সহজবোধ্য নির্দেশিকা থাকা জরুরি, যাতে সংকটের সময় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত ও কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, জরুরি পরিস্থিতিতে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা, রোগী পরিবহন এবং আইসোলেশন ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনী ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি পারমাণবিক নিরাপত্তা নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি এড়াতে গণমাধ্যমে সহজবোধ্য ভাষায় সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য তুলে ধরার ওপর জোর দেন তিনি।
কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান বলেন, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠপর্যায়ের প্রথম সাড়াদানকারী থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী পর্যন্ত প্রত্যেকের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। আসন্ন আইএইএ মিশনকে সামনে রেখে স্ব-মূল্যায়নের মাধ্যমে বিদ্যমান প্রস্তুতির ঘাটতি চিহ্নিত করা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট করাই এ কর্মশালার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পারমাণবিক শক্তি) আবুল খায়ের মো. আক্কাস আলী। কর্মশালায় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন, পাবনা ও কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী এবং চিকিৎসা দলের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এতে জরুরি পরিস্থিতিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব, পারস্পরিক সমন্বয় এবং প্রস্তুতি আরও জোরদার করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
কর্মশালা শেষে আইএইএর আসন্ন ইমার্জেন্সি প্রিপেয়ার্ডনেস রিভিউ মিশন উপলক্ষে প্রকাশিত একটি বিশেষ বুকলেটের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। সংশ্লিষ্টদের আশা, এ ধরনের প্রস্তুতিমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা আরও সুসংহত হবে এবং জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত সাড়াদান ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পথ সুগম হবে।