সারাদেশ

কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: স্ত্রী ও দুই মেয়েসহ নিখোঁজ তুহিন, মিলছে না সন্ধান


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৭ এএম

কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: স্ত্রী ও দুই মেয়েসহ নিখোঁজ তুহিন, মিলছে না সন্ধান
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর স্ত্রী ও দুই মেয়েসহ নিখোঁজ রয়েছেন নাহিদুর রহমান তুহিন। রিসোর্টের ২০২ নম্বর কক্ষে তাদের থাকার বুকিং থাকলেও এখন পর্যন্ত পরিবারের চার সদস্যের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। হাসপাতাল, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছে খোঁজ নিয়েও তাদের সন্ধান না মেলায় চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় রয়েছেন স্বজনেরা। অগ্নিকাণ্ডে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তালিকাতেও তাদের নাম পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

নিখোঁজ নাহিদুর রহমান তুহিন যশোরের মণিরামপুর উপজেলার মোহনপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের ছেলে। তিনি ঢাকার শ্যামলীতে অবস্থিত গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। স্ত্রী আফসানা এবং সাত বছর বয়সী মেয়ে রোবাইনা ও তিন বছর বয়সী মেয়ে সুনাইনাকে নিয়ে ঢাকায় বসবাস করতেন তিনি।

রিসোর্টের বুকিং নথি অনুযায়ী, গত ১৬ অক্টোবর থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত দুই রাতের জন্য নাহিদুর রহমানের নামে ২০২ নম্বর সুপার ডিলাক্স কক্ষটি বুক করা হয়েছিল। নথিতে দুই অতিথির জন্য কক্ষ বুকিংয়ের তথ্য উল্লেখ রয়েছে। ১৮ অক্টোবর দুপুর ১টায় তাদের রিসোর্ট ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। বুকিংয়ের বিলের একটি কপিও সংবাদমাধ্যমের হাতে এসেছে। তবে বুকিংয়ের নথি থাকলেও অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে পরিবারের সদস্যদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।

নাহিদুরের বড় ভাই জাহিদুর রহমান প্রিন্স জানান, তার ভাই শুক্রবার কক্সবাজারে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। শনিবার সকালে রিসোর্টে আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর তিনি নাহিদুরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু তার ভাই কিংবা পরিবারের অন্য কারও সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এরপর থেকে পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজখবর নিচ্ছেন। হাসপাতালসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ করেও এখন পর্যন্ত তাদের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাননি তারা।

নাহিদুরের কর্মস্থল গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মির্জা রকিবুজ্জামান জানান, তিনি বর্তমানে চীনে রয়েছেন। রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর তিনিও নাহিদুরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে তার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। প্রতিষ্ঠানের অন্যরাও তার খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে জানান তিনি।

এদিকে, নিখোঁজ নাহিদুর রহমানের বিষয়ে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান। তিনি জানান, অগ্নিকাণ্ডে নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেলেও বাকি চারজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। মরদেহগুলো শনাক্ত করার জন্য ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা দোলন আচার্য্য জানান, অগ্নিকাণ্ডের পর প্রথমে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে রিসোর্টের শৌচাগার থেকে আরও চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আগুনে মরদেহগুলো মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে।

রিসোর্টের বুকিং নথি, পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে পুলিশের দেওয়া তথ্যের পরও নাহিদুর রহমান তুহিন, তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া চলমান থাকায় নিখোঁজ পরিবারটির বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তাদের সন্ধান পেতে স্বজনেরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করছেন।